রবিবার । ৭ই জুন, ২০২৬ । ২৪শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

গোবিপ্রবি’তে ৩৩ বিভাগে অধ্যাপক মাত্র ২ জন, ১০ বিভাগে নেই সহযোগী অধ্যাপক!

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি

মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগে অন্তত একজন অধ্যাপক বা সহযোগী অধ্যাপক থাকা বাঞ্ছনীয়। তবে এ ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। ৩৩টি বিভাগ নিয়ে পরিচালিত এ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক রয়েছেন মাত্র দু’জন, আর ১০টি বিভাগে নেই কোনো সহযোগী অধ্যাপক।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, শুধুমাত্র ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ ও পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে একজন করে অধ্যাপক রয়েছেন। বাকি ৩১টি বিভাগে কোনো অধ্যাপক নেই। এছাড়া ২৩টি বিভাগে সহযোগী অধ্যাপক থাকলেও ১০টি বিভাগ এখনো জ্যেষ্ঠ শিক্ষকশূন্য। ফলে অধিকাংশ বিভাগের একাডেমিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে সহকারী অধ্যাপক ও প্রভাষকদের ওপর নির্ভর করে। কয়েকটি বিভাগে শিক্ষক সংখ্যা মাত্র একজন।

সহযোগী অধ্যাপকবিহীন বিভাগগুলোর মধ্যে রয়েছে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিং, আর্কিটেকচার, পরিবেশবিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মনোবিজ্ঞান, উদ্ভিদবিজ্ঞান, ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স এবং অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগ। এর মধ্যে ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট ও অ্যানিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন বিভাগে শিক্ষক সংকট সবচেয়ে বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষকের উপস্থিতি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ধরে অধ্যাপক ও সহযোগী অধ্যাপকের ঘাটতি থাকলে গবেষণা, উচ্চশিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক একাডেমিক সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকের অভাবে গবেষণা, থিসিস তদারকি, ফেলোশিপ প্রস্তুতি এবং আন্তর্জাতিক মানের একাডেমিক পরিবেশ থেকে তারা বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী জন রায় বলেন, ‘৩৩টি বিভাগের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক মাত্র দু’জন থাকা গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংকটের প্রতিচ্ছবি। থিসিস ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে, ফলে শিক্ষার্থীরাও প্রয়োজনীয় একাডেমিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘ফাইনাল ইয়ারে এ সংকট সবচেয়ে বেশি অনুভূত হয়। নিয়মিত গবেষণা নির্দেশনা ও ফিডব্যাক পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। পাশাপাশি আধুনিক ল্যাব সুবিধা ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে ব্যবহারিক শিক্ষাও ব্যাহত হচ্ছে। অধ্যাপক পর্যায়ের গবেষক না থাকায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা অনুদান পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যাচ্ছে।’

এদিকে বাজেট সংকটের কারণে আপাতত অধ্যাপক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

এ বিষয়ে উপাচার্য ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, ‘চুক্তিভিত্তিকভাবে অধ্যাপক নিয়োগের কোনো পরিকল্পনা বর্তমানে নেই। বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে ৫৭ জন শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ধাপে ধাপে নিয়োগ ও পদোন্নতির মাধ্যমে সংকট নিরসনের চেষ্টা করা হবে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন