বিশ্বকাপের আগে লিওনেল মেসিকে নিয়ে আর্জেন্টিনা শিবিরে স্বস্তির হাওয়া। বাঁ পায়ের হ্যামস্ট্রিংয়ে অস্বস্তির কারণে কিছুদিন সতর্কতায় থাকা আর্জেন্টাইন অধিনায়ক এখন ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার পথে। বিশ্বকাপের আগে আর্জেন্টিনার দুই প্রস্তুতি ম্যাচের অন্তত একটিতে তাঁকে কিছু সময়ের জন্য দেখা যেতে পারে।
আর্জেন্টিনা কোচ লিওনেল স্কালোনি শুক্রবার মেসির ফিটনেস নিয়ে ইতিবাচক খবর দিয়েছেন। শনিবার টেক্সাসের কলেজ স্টেশনে হন্ডুরাসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা। এরপর মঙ্গলবার আলাবামার অবার্নে আইসল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। এই দুই ম্যাচের কোনো একটিতে মেসিকে কয়েক মিনিট খেলানোর সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি স্কালোনি।
স্কালোনি জানিয়েছেন, মেসি ভালো আছেন। শুক্রবারের অনুশীলনের একটি অংশ তিনি দলের সঙ্গে করেছেন। কোচের কাছে এটিই গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, কারণ মেসি এখন পুরোপুরি আলাদা অনুশীলনে নেই। ধীরে ধীরে এগোচ্ছেন এবং তাঁর উন্নতি আর্জেন্টিনা শিবিরকে স্বস্তি দিচ্ছে।
মেসি চোট পেয়েছিলেন ২৪ মে ইন্টার মায়ামির হয়ে খেলার সময়। বিশ্বকাপের কারণে মেজর লিগ সকার দুই মাসের বিরতিতে যাওয়ার আগে সেটিই ছিল তাঁর ক্লাবের শেষ ম্যাচ। সেই ম্যাচের পর থেকেই বাঁ হ্যামস্ট্রিংয়ের অস্বস্তি নিয়ে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
আর্জেন্টিনার জন্য মেসির ফিটনেস শুধু একজন খেলোয়াড়ের সুস্থতার প্রশ্ন নয়। তিনি এখনো দলের সবচেয়ে বড় প্রতীক, সবচেয়ে অভিজ্ঞ মুখ এবং বড় ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দেওয়ার মতো ফুটবলার। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা জেতানোর পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের গোল্ডেন বল জিতেছিলেন মেসি।
এই মৌসুমে ইন্টার মায়ামির হয়েও ছন্দে ছিলেন তিনি। ১৪ ম্যাচে করেছেন ১২ গোল, সঙ্গে ৮টি অ্যাসিস্ট। শুক্রবারই তাঁকে এমএলএস অল-স্টার দলে রাখা হয়েছে, যেখানে ২৯ জুলাই শার্লটে মেক্সিকোর লিগা এমএক্সের সেরা খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলবে এমএলএস অল-স্টার দল।
আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির পরিসংখ্যানও বিস্ময়কর। দেশের হয়ে এখন পর্যন্ত ১৯৮ ম্যাচে করেছেন ১১৬ গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে গোলের তালিকায় তাঁর ওপরে আছেন শুধু ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, পর্তুগালের হয়ে যার গোল ১৪৩টি।
বিশ্বকাপ ইতিহাসেও মেসি আলাদা উচ্চতায়। সবচেয়ে বেশি ২৬টি বিশ্বকাপ ম্যাচ খেলেছেন তিনি। জার্মানির লোথার ম্যাথাউসের চেয়ে একটি বেশি। ২০২৬ বিশ্বকাপে মেসি ও রোনালদো দুজনই নিজেদের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন। সেটি হলে বিশ্বকাপ ইতিহাসে নতুন রেকর্ড গড়বেন তাঁরা।
আর্জেন্টিনার বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ১৬ জুন। কানসাস সিটিতে গ্রুপ জে-এর প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া। এরপর ২২ জুন টেক্সাসের আর্লিংটনে অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে স্কালোনির দল। একই ভেন্যুতে ২৭ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচ জর্ডানের বিপক্ষে।
বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হিসেবে মাঠে নামার আগে আর্জেন্টিনার প্রস্তুতিতে সবচেয়ে বড় নজর এখন মেসির ওপর। তাঁকে নিয়ে তাড়াহুড়া করতে চায় না কোচিং স্টাফ। তবে অনুশীলনে দলের সঙ্গে আংশিকভাবে ফিরতে পারা এবং প্রস্তুতি ম্যাচে কিছু মিনিট পাওয়ার সম্ভাবনা দুটিই আর্জেন্টিনার জন্য বড় স্বস্তির খবর।
খুলনা গেজেট/এএজে

