শনিবার । ৬ই জুন, ২০২৬ । ২৩শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

বিশ্বকাপ ফুটবল, বাকি মাত্র ০৫ দিন

মোঃ আনিস উদ্দিন

বিশ্ব ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র ৫ দিন বাকি। গ্লোবাল ডিকশনারিতে সবচেয়ে চেনা শব্দগুলোর তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবে ‘ফুটবল’। আফ্রিকার বিদ্যুৎহীন, অনুন্নত গ্রাম থেকে শুরু করে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের যে কোনো আধুনিক মেগাসিটি-ভৌগোলিক ও সামাজিক সব ব্যবধান এক নিমিষেই মুছে দিতে পারে এই একটি গোল চামড়ার বল।

সময়ের পরিক্রমায় আবারও আর একটি ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের ঘরের দুয়ারে দাড়িয়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ এর জ্বরে সারা পৃথিবীর মত কাঁপছে বাংলাদেশও। সারা বছর ক্রিকেটের ভিড়ে ফুটবল আড়ালে থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বাঙ্গালীর ফুটবল প্রেম কিংবা উন্মাদনা চোখে পরার মত। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ইতিমধ্যেই তাদের পছন্দের দল এর সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। নিজের পছন্দের দলের গুণগান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের দুর্নাম করায় ব্যস্ত সবাই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যকার শীতল যুদ্ধ উপভোগ্য। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২০২৬ সালের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপের পূর্বের আসরগুলোতে জড়িয়ে আছে হাসি- কান্না , সাফল্য – ব্যর্থতার মুহূর্ত। আসুন ফিরে দেখি বিশ্বকাপ ফুটবলের কিছু বিতর্কিত, কলঙ্কিত এবং স্মরণীয় মুহূর্ত।

মাইকেল ওয়েন: ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা, ১৯৯৮

১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল আর্জেন্টিনার হাত ধরে। এক যুগ পর এসে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে সেই হারের ক্ষত লেপনের সুযোগ আসে ইংল্যান্ডের হাতে। সেই ক্ষত শুকাতে না পারলেও নজরকাড়া এক গোলে দলকে সমতায় এনেছিলেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড মাইকেল ওয়েন। যদিও শেষ পর্যন্ত টাইব্রেকারে ইংল্যান্ড হেরে যায়, কিন্তু দুর্দান্ত সেই গোলটিকে ইতিহাসের সেরা দ্বিতীয় গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেয় ফিফা।

সেই বিশ্বকাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে পরিণত আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয় নবীন দল ইংল্যান্ড। বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে মাঝমাঠের কাছাকাছি থেকে ডেভিড বেকহামের পাস রিসিভ করেন ওয়েন। তার সামনে ছিলেন তখন আর্জেন্টিনার দুজন মিডফিল্ডার।

নজরকাড়া ড্রিবলিংয়ে দুজনকেই কাটিয়ে ডি বক্সের দিকে এগিয়ে যান ওয়েন। ডি-বক্সের কাছাকাছি এসে হুট করেই কী যেন হয়ে যায় তার। অবিশ্বাস্যভাবে দৌড়ের গতি বাড়িয়ে ঢুকে পড়েন ডি বক্সে। আর সেখান থেকে আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক কার্লোস রোয়ার মাথার ওপর দিয়ে বল জালে জড়ান ওয়েন।

স্বাভাবিক গতি থেকে হুট করেই গতি বাড়িয়ে দিয়ে ব্যালেন্স ধরে রেখে যেভাবে তিনি গোল আদায় করে নিয়েছিলেন, সেটি প্রশংসার যোগ্য। আর সে কারণেই ইতিহাসের দ্বিতীয় সেরা গোলের কারিগর হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন