বিশ্ব ফুটবলের মহারণ শুরু হতে আর মাত্র ৭ দিন বাকি। গ্লোবাল ডিকশনারিতে সবচেয়ে চেনা শব্দগুলোর তালিকা করলে ওপরের দিকেই থাকবে ‘ফুটবল’। আফ্রিকার বিদ্যুৎহীন, অনুন্নত গ্রাম থেকে শুরু করে ফার্স্ট ওয়ার্ল্ডের যে কোনো আধুনিক মেগাসিটি- ভৌগোলিক ও সামাজিক সব ব্যবধান এক নিমিষেই মুছে দিতে পারে এই একটি গোল চামড়ার বল।
সময়ের পরিক্রমায় আবারও আর একটি ফুটবল বিশ্বকাপ আমাদের ঘরের দুয়ারে দাড়িয়ে। ফুটবল বিশ্বকাপ এর জ্বরে সারা পৃথিবীর মত কাঁপছে বাংলাদেশও। সারা বছর ক্রিকেটের ভিড়ে ফুটবল আড়ালে থাকলেও ফুটবল বিশ্বকাপ এলে বাঙ্গালীর ফুটবল প্রেম কিংবা উন্মাদনা চোখে পরার মত। প্রতিটি পাড়ায় মহল্লায় ইতিমধ্যেই তাদের পছন্দের দল এর সমর্থক গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। নিজের পছন্দের দলের গুণগান করার পাশাপাশি প্রতিপক্ষ দলের দুর্নাম করায় ব্যস্ত সবাই। বিশেষ করে আর্জেন্টিনা আর ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যকার শীতল যুদ্ধ উপভোগ্য। আর মাত্র কয়েকদিন পরেই শুরু হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ২০২৬ সালের জমজমাট আসর। বিশ্বকাপের পূর্বের আসরগুলোতে জড়িয়ে আছে হাসি- কান্না , সাফল্য – ব্যর্থতার মুহূর্ত। আসুন ফিরে দেখি বিশ্বকাপ ফুটবলের কিছু বিতর্কিত, কলঙ্কিত এবং স্মরণীয় মুহূর্ত।
পেলে: ব্রাজিল বনাম সুইডেন
১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল। সুইডেনের বিপক্ষে বৃষ্টিস্নাত সেই ম্যাচে সুইডেনকে হারিয়ে প্রথম শিরোপার স্বাদ নিয়েছিল সেলেসাওরা।
ম্যাচের শুরুতে গোল হজম করলেও প্রথমার্ধেই ২-১ গোলে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অসাধারণ নৈপুণ্যে এক গোল করেন পেলে। চোখ ধাঁধানো সেই গোল আজও স্মৃতির মণিকোঠায় ফুটবল ভক্তদের।
সুইডিশদের সীমানায় নিলটন স্যান্টোসের ক্রস বুক দিয়ে রিসিভ করেন পেলে। সামনে দাঁড়ানো ডিফেন্ডার সিগ পারলিন কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেলে আলতোভাবে বলটি ক্লিক করে তার মাথার ওপর দিয়ে ছোট ডি-বক্সে ফেলেন। ডি বক্সে ফেলেই চোখের পলকে অবিশ্বাস্য এক সাইড ভলিতে সুইডিশ গোলরক্ষক সভেনসনকে পরাস্ত করেন পেলে। সেই ম্যাচে ব্রাজিল জয় পেয়েছিল ৫-২ গোলে।
ডিয়েগো ম্যারাডোনা: আর্জেন্টিনা বনাম ইংল্যান্ড
১৯৮৬-এর বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষ ম্যাচে আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অফ গড’-এর রেশ তখনও কাটেনি। তার আগেই তিনি ঘটিয়ে বসেছিলেন অনন্য এক কীর্তি। নজরকাড়া ড্রিবলিং ও অসাধারণ স্প্রিন্টে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ইংল্যান্ডের জালে আছড়ে পড়ে দ্বিতীয় গোল।
এতটাই অবিশ্বাস্য ছিল তার গোলটি যে শেষ পর্যন্ত সেটি তকমা পায় ‘পগাল অফ দ্য সেঞ্চুরি’ হিসেবে। এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলটির মালিকানা যদি কাউকে দিতে হয়, সেটি নিঃসন্দেহে যাবে ম্যারাডোনার ঝুলিতে।
দ্বিতীয়ার্ধের নবম মিনিটে অবিশ্বাস্য সেই গোলটি করেছিলেন আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি। নিজেদের সীমানার ভেতর থেকে হেক্টর এনরিকের পাস ধরে অসাধারণ স্প্রিন্টে মাত্র ১০ সেকেন্ডে ৬০ মিটার দৌড়ে পার হন ম্যারাডোনা।
পথে ড্রিবলিং নৈপুণ্যে কাটান হডল, রিড, স্যানসম বুচার আর ফেনউয়িককে। চার ফুটবলারকে কাটিয়ে ডি বক্সে ঢোকার পর তার প্রতিপক্ষ ছিল কেবল ইংলিশ গোলরক্ষক পিটার শিলটন। দারুণ এক ভেলকিতে তাকেও বোকা বানিয়ে বাম পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ম্যারাডোনা। আর তাতেই তিনি দিয়ে বসেন গোল অফ দ্য সেঞ্চুরি।
খুলনা গেজেট/এনএম

