ঈদুল আজহার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হলো কুরবানি। কুরবানির পশুর চামড়া বা তার বিনিময়ে পাওয়া অর্থ নিজের ভোগ-বিলাসে ব্যবহার করা যায় না।
এ বিষয়ে ইসলামি শরীয়তের নিয়মগুলো নিম্নরূপ:
চামড়া ব্যবহারের বিধান
কুরবানিকারী ব্যক্তি চাইলে নিজের পশুর চামড়া নিজে ব্যবহার করতে পারেন। চামড়াটি সঠিকভাবে ‘দাবাগত’ বা প্রক্রিয়াজাত করে সেটি দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় কোনো জিনিস তৈরি করে ব্যবহার করা জায়েজ। তবে রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিস অনুযায়ী, এটি বিক্রি না করে ব্যবহার করাই বেশি উত্তম।
চামড়া বিক্রির ক্ষেত্রে করণীয়
যদি কেউ কুরবানির চামড়া বিক্রি করতে চান, তবে একটি বিষয় মনে রাখতে হবে—এই বিক্রয়লব্ধ অর্থ কুরবানিকারী ব্যক্তি নিজের কাজে বা ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করতে পারবেন না। চামড়া বিক্রির সম্পূর্ণ টাকা বাধ্যতামূলকভাবে গরিব-মিসকিন বা অভাবী মানুষদের মাঝে দান করে দিতে হবে।
যারা এই অর্থ পাওয়ার উপযুক্ত
ইসলামের দৃষ্টিতে যারা জাকাত ও ফিতরা পাওয়ার উপযুক্ত, কেবল তারাই কুরবানির চামড়ার অর্থ পাওয়ার হকদার। পবিত্র কুরআনের সুরা তাওবার ৬০ নম্বর আয়াতে জাকাত ব্যয়ের যে ৮টি খাতের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেই খাতের ব্যক্তিরাই এই অর্থের প্রাপক। বিশেষ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছেন গরিব, অসহায়, ইয়াতিম কিংবা অর্থাভাবে ইলমে দ্বীন বা ধর্মীয় শিক্ষা অর্জনে বাধাগ্রস্ত দ্বীনি শিক্ষার্থীরা।
তবে কুরবানির গোশত বা চামড়া দিয়ে কসাইয়ের মজুরি পরিশোধ করা সম্পূর্ণ নিষেধ। কসাইকে তার পাওনা মজুরি নগদ অর্থেই দিতে হবে। যেহেতু এটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করা ইবাদতের অংশ, তাই চামড়া বিক্রির অর্থ কোনোভাবেই নিজের জন্য রাখা যাবে না। পরিশেষে, কুরবানির পশুর চামড়ার অর্থ গরিব, অসহায় এবং দ্বীনি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ব্যয় করাই সর্বোত্তম। আল্লাহর নির্ধারিত এই বিধান মেনে চলার মাধ্যমে ইবাদত পূর্ণতা পায়।
তথ্যসূত্র: হাদিস ও ফিকহ শাস্ত্রের আলোকে ইসলামি বিধিবিধান।

