ইসলাম সম্পর্কে ৮ তথ্য

গেজেট প্রতিবেদন

বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম ইসলাম। সম্প্রতি ইসলামের বিশ্বাস, রীতি-নীতি ও এর অভ্যন্তরীণ বৈচিত্র্য নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। পশ্চিমা গবেষকদের দৃষ্টিতে তৈরি এই প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাপী ইসলামের প্রসার, মূল স্তম্ভ এবং এর বিভিন্ন শাখার একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি বিশ্লেষণ করলে ইসলাম সম্পর্কে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামনে আসে।

১. ভৌগোলিক অবস্থান ও দ্রুত প্রবৃদ্ধি

বর্তমানে বিশ্বে প্রায় ১৯১ কোটি মুসলিমের বসবাস, যা ইসলামকে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মে পরিণত করেছে। এর মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ মুসলিম মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাস করেন। উচ্চ জন্মহারের কারণে ইসলামকে বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল ধর্ম হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

বর্তমান বৈশ্বিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার কারণে মুসলিম জনসংখ্যা এখন বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ছে। এক জরিপ অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে ইউরোপের মোট জনসংখ্যার ১০ দশমিক ২ শতাংশ হবে মুসলিম, যা ২০১০ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

২. ছয়টি মূল আকিদা ও পাঁচটি স্তম্ভ

ইসলামের ভিত্তি গড়ে উঠেছে ছয়টি মূল আকিদা বা বিশ্বাস এবং পাঁচটি আবশ্যিক রীতির ওপর। বিশ্বাসগুলো হলো আল্লাহর একত্ববাদ বা তাওহিদ, ফেরেশতা, নবী-রাসুল, আসমানি কিতাব যেমন তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কোরআন, কেয়ামত বা শেষ বিচার এবং আল্লাহর হুকুম বা তাকদিরের ওপর বিশ্বাস। এর মধ্যে তাওহিদ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে পাঁচটি মূল দায়িত্ব বা স্তম্ভ হলো, ইমানের সাক্ষ্য দেওয়া বা আল্লাহর একত্ববাদের ওপর বিশ্বাস স্থাপন করা, নামাজ, রমজান মাসে রোজা, যাকাত এবং সামর্থ্যবানদের জন্য হজ পালন করা।

৩. ইসলামের বিভিন্ন শাখা ও আদর্শ

ইসলামের ভেতর বিভিন্ন মতাদর্শ রয়েছে। যেমন সুফিবাদ হলো একটি আধ্যাত্মিক ধারা, যেখানে প্রাতিষ্ঠানিক রীতির চেয়ে আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়।

আবার সালাফিবাদ হলো ইসলামের প্রাথমিক যুগের সরলতায় ফিরে যাওয়ার একটি আন্দোলন। এর বাইরে শুধু কোরআনকে একমাত্র উৎস মনে করা একদল মানুষও রয়েছে, যারা হাদিসের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

৪. মূল ভিত্তি কোরআন ও মহানবীর (সা.) জীবনাদর্শ

কোরআন হলো আল্লাহর চূড়ান্ত বাণী, যা পূর্ববর্তী আসমানি কিতাবগুলোর ধারাবাহিকতা রক্ষা ও পূর্ণতা দান করেছে। মুসলিমরা বিশ্বাস করেন, হজরত মুহাম্মদ (সা.) হলেন আল্লাহর শেষ রাসুল এবং কোরআন হলো আল্লাহর অবিকৃত ও চূড়ান্ত বাণী, যার মূল কপি লওহে মাহফুজে সংরক্ষিত রয়েছে।

৫. কোরআনে পূর্ববর্তী নবীগণের উল্লেখ

কোরআনে এমন অনেক নবীর কথা উল্লেখ আছে, যাদের খ্রিষ্টান ও ইহুদিরাও শ্রদ্ধা করে। যেমন আদম, নূহ, ইউসুফ, মুসা, দাউদ, ঈসা এবং ইয়াহইয়া (আ.)। তবে বাইবেল ও কোরআনে তাদের জীবনীর বর্ণনায় কিছু ভিন্নতা রয়েছে। যেমন কোরআনে উল্লেখ আছে, হযরত ঈসা আলাইহিস সালাম শৈশবেই অলৌকিক ক্ষমতা প্রদর্শন করেছিলেন, যা প্রচলিত বাইবেলে ভিন্নভাবে দেখা যায়।

৬. সূরার গঠন ও প্রেক্ষাপট

কোরআনের সূরাগুলো সাধারণত কালানুক্রমিক বা বিষয়ভিত্তিক না হয়ে বড় থেকে ছোট আকারে সাজানো হয়েছে। অনেক সূরার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বা শানে নুযুল বুঝতে মহানবীর (সা.) জীবনী ও হাদিসের সাহায্য নিতে হয়। যেমন সূরা ফিলের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বুঝতে পরবর্তী সময়ে সংকলিত সীরাত বা জীবনীর ওপর নির্ভর করতে হয়।

৭. পূর্ববর্তী কিতাব সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি

ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, আল্লাহ যুগে যুগে বিভিন্ন কিতাব নাজিল করেছেন। তবে মুসলিমদের ধারণা, বর্তমান বাইবেলের মূল পাঠে সময়ের সাথে সাথে কিছু পরিবর্তন এসেছে।

৮. রমজানের তাৎপর্য

হিজরি ক্যালেন্ডারের পবিত্র রমজান মাসে মুসলিমরা প্রথম ওহি বা কোরআন নাজিলের স্মৃতি স্মরণ করেন। এই মাস জুড়ে তারা দিনের আলোয় পানাহার থেকে বিরত থেকে রোজা পালন করেন এবং দান-সদকা ও ইবাদতে মশগুল থাকেন। এই মাসের শেষ দশকের একটি রাতকে শবে কদর বা ভাগ্য রজনী বলা হয়, যা মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত মহিমান্বিত। সমসাময়িক গবেষকদের মতে, এই পবিত্র মাসটি বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে ধর্মীয় সংলাপ ও পারস্পরিক সৌহার্দ্য বাড়াতে বড় ভূমিকা রাখছে।

খুলনা গেজেট/রুএ




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন