বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বন্দ্বই সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের অষ্টম আসরের কেন্দ্রবিন্দু, যার সূচনা হচ্ছে আগামীকাল সোমবার। টানা দুবারের চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশের সামনে এবার হ্যাটট্রিক মিশন। লাল-সবুজদের সেই কীর্তি গড়ার প্রচেষ্টার সামনে দেয়াল তুলে দিয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তির খোঁজে ভারত।
এখানে ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ আসছে মূলত পুরুষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের কারণে। ১৯৯৯ সালের আসর আয়োজিত হয়েছিল ভারতের গোয়ায়। এবারের আসর হচ্ছে একই শহরে, একই ভেন্যুতে। সেই আসরে বাংলাদেশের শিরোপা স্বপ্নে জল ঢেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত। সাতাশ বছর পর নারী ফুটবলের মঞ্চ।
আবারও সেই দুটি নাম আলোচনার কেন্দ্রে— বাংলাদেশ ও ভারত। মালাবার উপকূলের বুকে এই লড়াইয়ে শুধু একটি শিরোপাই দাঁড়িপাল্লায় নেই— দুই দেশের আধিপত্যের লড়াইয়ে বাড়তি মাত্রা যোগ করছে অতীত ইতিহাসও।
ছয় দলকে দুটি সমান গ্রুপে ভাগ করা হয়েছে। ‘বি’ গ্রুপে আছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, স্বাগতিক ভারত এবং মালদ্বীপ। ‘এ’ গ্রুপে রয়েছে নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও ভুটান। দুই গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে উঠবে। উদ্বোধনী ম্যাচে ভারত খেলবে মালদ্বীপের বিপক্ষে। এই গ্রুপের শেষ ম্যাচে ৩১ মে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে স্বাগতিকরা। আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৬ জুন।
নারী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাস ঘাঁটলে ভারতের একক আধিপত্য পরিষ্কার হয়— ২০১০, ২০১২, ২০১৪, ২০১৬ ও ২০১৯ সালে পাঁচ শিরোপা জিতেছে দেশটি। প্রায় এক দশকের আধিপত্য ভেঙেছে বাংলাদেশ। ২০১৬ সালের ফাইনাল দিয়ে আগমনী বার্তা দেওয়া লাল-সবুজরা ২০২২ সালের পর ২০২৪ শিরোপা জিতেছে। সংখ্যার বিচারে ভারত এগিয়ে ৫-২ ব্যবধানে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় নারী ফুটবলের সেরা। এই রূপান্তর স্বীকার করেই ভারত এবারের আসরে নামছে ষষ্ঠ শিরোপার সন্ধানে— রেকর্ড আরও প্রসারিত করার অঙ্গীকার নিয়ে। ফিফা র্যাংকিংয়ে ৬৯তম ভারতের বিপরীতে ১১২তম বাংলাদেশ। সংখ্যায় ভারত এগিয়ে, মাঠের ফুটবলে র্যাংকিং সর্বদা শেষ কথা বলে না— সাম্প্রতিক দুটি আসরই তার প্রমাণ।
২০১৬ সালে ভারত সিলিগুড়িতে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করেছিল এবং সেবার চতুর্থ শিরোপা জিতেছিল। দ্বিতীয়বারের মতো আয়োজক হিসেবে ভারত ফের ঘরের মাঠের সুবিধা নিতে চায়। কিন্তু বাংলাদেশ এবার প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বেশ পরিপক্ব ও শক্তিশালী। ভারতের মূল শক্তি তাদের অভিজ্ঞ স্কোয়াড। কোচ ক্রিস্পিন ছেত্রীর ২৩ সদস্যের দলে রয়েছেন গ্রেস ডাংমেই, মণীষা কল্যাণ, সঙ্গীতা বাসফোর এবং পিয়ারি জাজার মতো অভিজ্ঞ মুখ। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভালো পারফরম্যান্স করেছে ভারত। বাংলাদেশের বিপরীতে ভারতের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়েছে যুব পর্যায়ের সাম্প্রতিক সাফল্যও।
এ বছর পোখারায় সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ভারত ৪-০ গোলে বাংলাদেশকে হারিয়েছে। সিনিয়র পর্যায়ের সাম্প্রতিক অধ্যায় অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে।
খুলনা গেজেট/এএজে

