হাম ও উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ৫১২ শিশুর মৃত্যু হলো। শনিবার (২৩ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে বরিশালের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গে ঢাকায় চার, চট্টগ্রামে দুই, সিলেটে চার, বরিশাল ও ময়মনসিংহে একজন করে শিশু মারা গেছে।
চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪২৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৮৬ শিশু। সবমিলিয়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
এ ছাড়া সারা দেশে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬২ হাজার ৫০৭ শিশুর। আর নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৪৯৪ শিশু।
হাম রোগ আসলে কী, কেন হয়?
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখা) অধ্যাপক ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম প্রকৃপক্ষে একটি মারাত্মক ভাইরাল ডিজিজ। মায়াসলেস ভাইরাস নামের একটি ভাইরাস দ্বারা এটি ছড়ায়। টিকার মাধ্যমে এ ভাইরাসটি বহু বছর ধরে আমরা প্রতিরোধ করে আসছি। এবার একটু ব্যত্যয় ঘটতে দেখা গেল। যেখানে আগে হাম হতোই না, সেখানে এবার মহামারি আকারে দেখা গেল।
তিনি আরও বলেন, এই ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে, একজন শিশু আক্রান্ত হলে অন্তত ১৬ থেকে ১৭ জন পর্যন্ত শিশু আক্রান্ত হতে পারে। হামে যদিও সরাসরি মৃত্যু ঘটে না। কিন্তু হাম প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় তার ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়ে বাচ্চা মারা যেতে পারে। তার মধ্যে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া, মস্তিষ্কের জটিলতা সৃষ্টির পাশাপাশি ভিটামিন এ কমিয়ে দেয়।
যেভাবে বুঝবেন আপনার শিশু হামে আক্রান্ত এবং এর চিকিৎসা কী?
ডা. বে-নজীর আহমেদ বলেন, হাম যেহেতু সংক্রমণ সুতরাং এখানে একটি কমন লক্ষণ হলো গলাব্যথা, হাঁচি, কাশি হতে পারে। এরপরে গায়ে ফুসকুড়ি বা র্যাশ দেখা দিতে পারে। বর্তমানে যদি জ্বর আসে শরীরের র্যাশ দেখা দেয়, তাহলে ধরে নিতে হবে এটি হাম।
তিনি বলেন, যেহেতু এটি ভাইরাল ডিজিজ, কাজেই প্রাতিষ্ঠানিক কোনো চিকিৎসা নেই। তবে লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দিতে হয়। জ্বর থাকলে প্যারাসিটামল কিংবা যেসব ব্যবস্থা নিলে জ্বর কমবে, তা নিতে হবে। হামের প্রভাবে নিউমোনিয়া দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে, ভিটামিন এ সাপ্লিমেন্টেশন দিতে হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

