রবিবার । ২৪শে মে, ২০২৬ । ১০ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শুধু ক্রেতা নয়, প্রতিদিন দর্শনার্থীরাও ভিড় করছে ডুমুরিয়ার ‘রাজা মানিক’ দেখতে

হুমায়ুন কবির খান, উঃ ডুমুরিয়া

ডুমুরিয়া উপজেলার শাহপুর বাজার উত্তর দিকে ৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত রঘুনাথপুর গ্রামে এখন যেন ছোটখাটো মেলা বসছে প্রতিদিন। কারণ একটাই বিশালাকৃতির এক ষাঁড়, যার নাম রাজা মানিক। প্রায় ৪০ মণ ওজনের এই ফ্রিজিয়ান জাতের গরুটি শুধু আকার-আকৃতির কারণেই নয়, মানুষের কথা বুঝে অভিনব কান্ড ঘটানোর জন্যও এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

খামারি মিনু সাহা আদর করে যখন বলেন, “রাজা মানিক, দাঁত দেখাও তো! তখনই সবার সামনে ঠোঁট উল্টে দাঁত বের করে দেয় বিশালদেহী ষাঁড়টি। মুহূর্তেই বিস্ময়ে হতবাক হয়ে যান দর্শনার্থীরা। কেউ মোবাইলে ভিডিও করছেন, কেউ আবার কাছে গিয়ে ছুঁয়ে দেখছেন রাজা মানিককে। এই দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই রঘুনাথপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় ভিড় করছেন শত শত মানুষ। স্থানীয়রা বলছেন, এমন আচরণ করা গরু তারা আগে কখনও দেখেননি।

খামারি মিনু সাহা জানান, গত পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো করেই বড় করেছেন রাজা মানিককে। রঘুনাথপুর গ্রামের নিজ বাড়িতে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো ধরনের রাসায়নিক ফিড বা মোটাতাজাকরণ ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি বলেও দাবি তার।

প্রতিদিন গরুটির খাদ্য তালিকায় থাকে কুঁড়ির ভাত, ভুট্টার গুঁড়ো, গমের ভুষি, খড় ও সামান্য লবণ। বিশাল দেহের এই ষাঁড়টির পেছনে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। বিভিন্নভাবে মাপ নিয়ে অনেকে এর ওজন ৩৫ থেকে ৪৮ মণ পর্যন্ত ধারণা করলেও মিনু সাহার দাবি, রাজা মানিকের ওজন অন্তত ৪০ থেকে ৪৫ মণ এবং উচ্চতা প্রায় ৭ ফুট।

তিনি বলেন, ওকে আমি কখনো পশু মনে করি না। আমার পরিবারের সদস্যের মতোই বড় করেছি। ডাক দিলে সাড়া দেয়, কথা বুঝে। দাঁত দেখানোটা ছোটবেলা থেকেই শিখেছে। বিশাল এই গরুটিকে ঘিরে শুধু দর্শনার্থীর আগ্রহই নয়, নানা ধরনের ঝামেলাও পোহাতে হয়েছে খামারিকে। মিনু সাহার অভিযোগ, গত কোরবানির ঈদে খুলনার এক ব্যবসায়ী ১২ লাখ টাকায় গরুটি কিনতে চাইলেও স্থানীয় কিছু দালালের কারণে শেষ মুহূর্তে সেই বিক্রি বাতিল হয়ে যায়।

তার দাবি, এবারও কিছু দালাল কম দামে গরুটি কিনে নেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছে। তবে তিনি ১২ লাখ টাকার নিচে গরুটি বিক্রি করবেন না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।

রাজা মানিককে দেখতে শুধু খুলনা নয়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ ছুটে আসছেন। বগুড়া থেকে আসা টিএমএসএস এর কয়েকজন কর্মকর্তা গরুটি দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন।

টিএমএসএস কর্মকর্তা মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন, এত বড় গরু বাস্তবে কখনও দেখিনি। কিন্তু সবচেয়ে অবাক হয়েছি দাঁত দেখানোর বিষয়টি দেখে। ডাক দিলেই দাঁত বের করে দেয়! সত্যিই অসাধারণ।

দর্শনার্থীদের অনেকে মনে করছেন, ঈদুল আজহা উপলক্ষে বড় গরুর বাজারে রাজা মানিক অনন্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। তবে এটি শুধু কোরবানির পশু নয়, বরং একজন খামারির দীর্ঘদিনের পরিশ্রম, ভালোবাসা ও ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি।

বর্তমানে রাজা মানিক এর দাম হাঁকা হয়েছে ১৪ লাখ টাকা। যদিও মিনু সাহা বলছেন, উপযুক্ত ও যত্নশীল ক্রেতা পেলে ১২ লাখ টাকাতেই প্রিয় গরুটি তুলে দিতে রাজি আছেন তিনি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন