সংরক্ষিত নারী আসনে ১১ দলীয় জোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. মাহমুদা আলম মিতু বলেছেন, এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে সবাই সমান অধিকার পাবে এবং সরকারি বরাদ্দের সুযোগ-সুবিধা কোনো নির্দিষ্ট দলের লোকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। রাষ্ট্রের সব সম্পদ জনগণের কল্যাণে সমানভাবে বন্টন করা হবে।
বুধবার (২০ মে) বিকেল ৫টায় ঝালকাঠির কাঁঠালিয়া উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আয়োজিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. মিতু বলেন, দেশে একটি বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে বর্তমান ব্যবস্থার পরিবর্তন দরকার। সরকারি অর্থ ও উন্নয়ন যেন দলীয় পরিচয় দেখে নয়, সবার জন্য সমানভাবে ব্যবহার করা হয়, সেটিই তার লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ৫ আগস্টের আগে মানুষ স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারত না, সমাবেশ করার কোনো সুযোগ ছিল না। অতীতে ফ্যাসিস্টের বিরোধিতা করা মানুষগুলো দমন-পীড়ন ও অন্যায়ের শিকার হয়েছে। শাহবাগে নাটক করে মানুষ হত্যা করা হয়েছে। শাপলা চত্বরে করেছে গণহত্যা। এসবের পুনরাবৃত্তি আর দেখতে চাই না। আমরা সিস্টেমের পরিবর্তন চাই। পুরোনো অবস্থা থেকে বের হতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক পুরো ব্যবস্থার পরিবর্তন প্রয়োজন।
কাঁঠালিয়া দীর্ঘদিন অবহেলিত ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার মানুষ রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও বিভিন্ন সরকারি সেবায় বৈষম্যের শিকার হয়েছে।
তিনি এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে দলীয় পরিচয়ের কারণে কেউ বঞ্চিত হবে না।
সরকারি অর্থ জনগণের সম্পদ উল্লেখ করে মিতু বলেন, অতীতে বিভিন্ন বরাদ্দের সঠিক ব্যবহার নিয়ে মানুষের প্রশ্ন ছিল। ভবিষ্যতে যেন উন্নয়ন ও সরকারি সুবিধা স্বচ্ছতার সঙ্গে সবার মধ্যে সমানভাবে বণ্টন হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। কে কোন প্রতীকে ভোট দিয়েছে, সেটি বিবেচনা না করে সবাইকে সমান সেবা দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি কোনো দলের এমপি হিসেবে নয়, কাঁঠালিয়ার মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করতে চাই। দেশের গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বানও জানান তিনি।
ডা. মিতু বলেন, কাঁঠালিয়ার ভাঙা রাস্তা, অবকাঠামোগত সমস্যা ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ দূর করতে আমি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবো।
তিনি আরও বলেন, আমি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে চাই, যেখানে মানুষ তার ন্যায্য অধিকার পাবে। এ সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মাওলানা মো. আমির হোসেন। আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা এনসিপি আহ্বায়ক মাইনুল ইসলাম মান্না, উপজেলা জামায়াতের আমির মাস্টার মো. মজিবুর রহমান, বিএনপি নেতা মো. খাইরুল আলম খোকন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. ফজলুল হক মৃধাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিরা।
খুলনা গেজেট/এএজে

