বিএনপির মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটা দল আছে। ধর্মের নামে রাজনীতি করে। খুব সুন্দর সুন্দর কথা বলবে, মিঠা মিঠা কথা আর ধর্মের কথা বলবে, আর মিথ্যা কথা বলবে। এই করে রাজনীতি হবে না। জনগণের ভালোবাসা পেতে হলে সত্য কথা বলে জনগণকে ভালোবেসে এগোতে হবে। তখন ভীষণভাবে ঢাক-ঢোল বাজাচ্ছিল ক্ষমতায় এসে গেছে, নির্বাচনের আগে খুব পিটাছিল না, এসে গেছে এসে গেছে জামায়াত এসে গেছে। কোথায় গেল তারা, মানুষ ভোট দিছে?
তিনি বলেন, এই দেশের মানুষ জামায়াতকে ক্ষমতায় আনবে না। খুব পরিষ্কার কথা। কেন, এই জামায়াতে ইসলাম ১৯৭১ সালে আমার স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, আমাদের যারা যোদ্ধা ছিল, মুক্তিযোদ্ধা ছিল, তাদেরকে হত্যা করেছিল। আমাদের মা-বোনদের সম্ভম বিনষ্ট করেছিল। কোনোমতেই তাদেরকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে পারি না। এই দেশের মানুষ পারে না।
বুধবার (২০ মে) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আয়োজনে সদর উপজেলার শিবগঞ্জ এলাকা সংলগ্ন পরিত্যক্ত বিমানবন্দরে এক সংবর্ধনায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই। গণতান্ত্রিকভাবে এগোতে চাই। তার অর্থ এই নয় যে আপনারা দেশের স্বাধীনতার বাইরে গিয়ে কথা বলবেন, অস্তিত্বের বিরুদ্ধে কথা বলবেন, আর আমরা সেগুলোকে মেনে নিয়ে কাজ করবো। এই দেশের মানুষ তা করতে দেবে না।
তিনি বলেন, কিছু মানুষ আছে, কিছু গোষ্ঠী আছে, কিছু দল আছে যারা জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চায়। তারা বিভিন্নভাবে অপপ্রচার চালিয়ে, মিথ্যা কথা বলে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। আমরা নাকি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে চাই না। অথচ আমরাই জুলাই সনদ তৈরি করেছি। সংস্কার আমাদের। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র নিয়ে এসেছিলেন। এটা একটা বিশাল সংস্কার ছিল। তিনি মিডিয়াকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন, বিচার বিভাগকে স্বাধীন করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া প্রেসিডেনশিয়াল ফর্ম অফ গভমেন্ট থেকে পার্লামেন্টারি ফর্ম অফ গভমেন্ট নিয়ে এসেছেন। তিনি মেয়েদের শিক্ষার জন্য ক্লাস টুয়েলেভ পর্যন্ত তিনি অবৈতনিক করেছেন। আজকে আমার প্রধানমন্ত্রী তিনি বলেছেন মেয়েদের ডিগ্রি পাস করবে কোনো বেতন দিতে হবে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা লড়াই করেছি এই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ১৪-১৫ বছর। আমরা ২০২১ সালে, ২২ সালে ৩১ দফা দিয়েছিলাম। সংস্কার কর্মসূচি এগুলো আমাদেরই করা। সুতরাং যখন আপনারা মানুষকে বলেন যে বিএনপি সংস্কার করতে চায় না, মিথ্যা কথা বলেন। আমরা পরিষ্কার করে বলছি মিথ্যাচার করবেন না। জনগণ আপনাদেরকে ক্ষমা করবে না।
তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান একটা নতুন দিগন্তের সূচনা করেছেন। নতুনভাবে মানুষকে পথ দেখাচ্ছেন। দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। আর যখন হাসিনা প্রধানমন্ত্রী ছিল, অফিসে যাচ্ছি এক সাথে ২০/৩০টা গাড়ি নিয়ে। মনে হয় যুদ্ধ লেগেছে। পুলিশ, সেনাবাহিনী সবাই রাস্তাঘাট ঘিরে রেখেছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রী অফিস যাচ্ছে কেউ বলতেই পারে না। উনি মাত্র তিনটা গাড়ি নিয়ে অফিস যায়। এটাই হচ্ছে পরিবর্তন। দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন মাইন্ড সেটআপের পরিবর্তন। তিনি জনগণের লোক তাই জনগণের সঙ্গে মিশে কাজ করছেন।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা বাংলাদেশ। তিনি মাত্র তিন মাসের মধ্যে দেশের আমুল পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছেন। বাংলাদেশের মাটিতে পা রেখেই বলেছেন আই হ্যাভ এ প্ল্যান। সেই প্ল্যানের কাজ তিনি শুরু করে দিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড দিয়েছেন, কৃষক কার্ড দিয়েছেন। খাল খননের কাজ শুরু করেছেন।
খুলনা গেজেট/এএজে

