বৃহস্পতিবার । ১৪ই মে, ২০২৬ । ৩১শে বৈশাখ, ১৪৩৩

বটিয়াঘাটায় সরকারি খাল ভরাট করে নির্মাণ হচ্ছে অবৈধ স্থাপনা

বটিয়াঘাটা প্রতিনিধি

বটিয়াঘাটার অধিকাংশ নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে চরমভাবে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। কচুরিপানা জমে থাকায় এবং দখল দূষণে খালগুলো পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলেছে। এতে করে দিন দিন খালগুলোর নাব্যতা কমে যাচ্ছে। ফলে পানি নিষ্কাশনসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এমন অবস্থা চললেও নদী ও খালগুলো রক্ষায় নেওয়া হয়নি কোনো পদক্ষেপ।

সরেজমিন ঘুরে ও এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন নামে ৮২টি বেশি খাল ও জলাশয় রয়েছে। এর ভিতর ৫০টি খালের ইজারা দেওয়া হয়। বাকি ৩২টি রেকর্ডীয়খাল ও জলাধারগুলো অবৈধ প্লট ব্যাবসার নামে ওই সকল ভরাটি সরকারি খালের উপরদিয়ে প্লটের রাস্তা নির্মাণ করে দখল করে নিচ্ছে। এতে করে কৃত্রিম জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে পরিবেশের ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া অধিকাংশ সরকারি খাস খালে দীর্ঘদিন যাবৎ কচুরিপানা জমে আছে। দেখে মনে হবে পুরো খাল জুড়ে সবুজে ঘেরা কোনো মাঠ অথবা চলছে কচুরিপানার প্রদর্শন। কোথাও পানির দেখা নেই। কিছু খালে আবার কচুরিপানা পচে গন্ধ, মাছি ও মশার জন্ম হচ্ছে। এই পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

বটিয়াঘাটা সদর হেতালবুনিয়া খালটির দু’পাশে ভরাট করে প্রশাসনের চোখের সামনে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে শত শত দোকানঘর ও পাকা ভবন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে আড়াআড়ি অবৈধভাবে বাঁধ, খণ্ড খণ্ড, টোনা জাল, নেট জাল, পাটা জাল, চাকজাল, কারেন্ট জাল ও পাটাতন নেটের বেড়া দিয়ে মাছচাষ করে চলেছে। তা ছাড়া ছোট ছোট খালগুলো যে যার মতো দখল করে গড়ে তুলেছেন বসত ঘরসহ নানা কংক্রিটের স্থাপনা ও পাকা প্রাচীর। জলমা ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর মৌজায় ১৮ টি সরকারি ভরাটি খাল দখল করে নিয়েছে কতিপয় প্লট ব্যবসায়ীরা।

স্থানীয় সচেতন মহলের পক্ষ থেকে উক্ত ১৮ খালের মুক্ত করতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। একদিকে বর্ষা মৌসুমে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। আর অন্যদিকে শুকনো মৌসুমে খালে পানি ধারণ ক্ষমতা না থাকায় সেচ সংকটের কারণে রবি শস্য ও বোরো চাষ চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সচেতন মহলের দাবি, অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, কচুরিপানা অপসারণ এবং খালগুলো খনন না করলে আগামীতে কৃষি কাজে দেখা দিতে পারে চরম বিপর্যয়। আগে সরকারি খালগুলোতে পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি ছিলো। তখন এলাকার লোকজন নৌকায় করে বিভিন্ন মালামাল আনা নেওয়া করতো।

এ ছাড়া কিছু লোক খালে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ হেতালবুনিয়াখাল, বয়ারভাঙ্গাখাল, হোগলবুনিয়াখাল, আমতলাখাল, বাদামতলাখাল, ইনেদারখাল, ঠাকুনবাড়ীরখাল, সমূদ্রেরখাল, গোগেরখাল, রামদিয়াখাল, হোগলাডাঙ্গাখাল, বাঁশবাড়িয়াখালসহ অধিকাংশ সরকারি খাস খালে কচুরিপানা জমে থাকায় এবং দখল দূষণে খালগুলোর পানি প্রবাহে স্বাভাবিক গতি হারিয়ে গেছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। আর দিন দিন খালগুলোতে পলি পড়ে গভীরতা কমে আসছে। ফলে পানি নিষ্কাশনসহ নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তা ছাড়া কচুরিপানা জমে থাকায় অনেক খালের কচুরিপানা পচে পানি দিয়ে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পানি দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার থান্দার কামরুজ্জামান বলেন, “সকল সরকারি রেকর্ডীয় খাল দখল মুক্ত করে খনন করা হবে। ইতোমধ্যে খালা খননের জন্য কর্তৃপক্ষের নিকট প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন