বুধবার । ১৩ই মে, ২০২৬ । ৩০শে বৈশাখ, ১৪৩৩

উত্তরের আমের অপেক্ষায় দক্ষিণের ক্রেতা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সীমান্তের জেলা সাতক্ষীরা থেকে আসা নানা জাতের আমের মৌ মৌ গন্ধে নগরীর বিভিন্ন আড়ৎ ও খুচরা দোকান মেতে উঠেছে। সপ্তাহখানিক ধরে এ জেলার আমের আমদানি বেশ বেড়েছে। আজ থেকে চুয়াডাঙ্গার বাগান থেকে আম সংগ্রহ শুরু হবে। ঈদের পর রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে নামি-দামি আম আসবে। সে অপেক্ষায় আছে দক্ষিণের ক্রেতা-বিক্রেতারা। উত্তরের আম আসার জন্য ট্রাক ছাড়াও তিনটি ট্রেনের লাগেজ ভ্যান প্রস্তুত রয়েছে।

ম্যাংগো ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ৫ মে থেকে সাতক্ষীরায় আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। সেখানকার উৎপাদিত গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গুটিজাতের আম নগরীর ট্রাক টার্মিনাল ও কদমতলার আড়ৎ সুমিষ্ট গন্ধে মেতে উঠেছে। গত ১০মে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ”নিরাপদ আম বাজারজাত করণ” শিরোনামে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১৫ মে থেকে হিমসাগর আম সংগ্রহের সময় সূচি নির্ধারণ করা হয়। ল্যাংড়া আম জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বাজারজাত হবে। ৫ জুন থেকে আম্রপালি বাজারজাতের পালা।

সীমান্তের অপর জেলা চুয়াডাঙ্গার উৎপাদিত গোপালভোগ, মুম্বাই, খিরশাপাতি, গুটি ও আঁটি জাতের আম আজ বুধবার থেকে সংগ্রহ হবে। ২২ মে হিমসাগর, ২৮ মে ল্যাংড়া, ৫ জুন আম্রপালি, ১৫ জুন ফজলি, ২০ জুন হাড়িভাঙ্গা, ২২ জুন ব্যানানা, ৩০ জুন আশ্বিনা, ৫ জুলাই কাটিমন এবং ৩১ জুলাই গৌড়মতি জাতের আম বাগান থেকে সংগ্রহ শুরু হবে।

জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে ১০ মের সভায় এ ম্যাংগো ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়। ২২ মে নওগা থেকে গুটি জাতের আম, ৩০ মে গোপালভোগ, ২ জুন হিমসাগর, খিরশাপাতি, ৫ জুন নাগফজলি, ১০ জুন ল্যাংড়া, হাড়িভাঙ্গা, ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ব্যানানা ম্যাংগো ও ফজলি, ৫ জুলাই আশ্বিনা, গৌরমতি ওকাটিমন জাতের আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ হয়েছে। শনিবার থেকে চুয়াডাঙ্গার আম আসতে শুরু করবে। রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ১০ মে সেখানে মতবিনিময় সভায় ম্যাংগো ক্যালেন্ডার চূড়ান্ত করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, ১৫ মে গুটি, ২২ মে গোপালভোগ, ২৫ মে রানী সম্পদ, লক্ষণভোগ, ৩০ মে হিমসাগর, খিরশাপাতি, ১০ জুন ল্যাংড়া, ১৫ জুন আম্রপালি, ১০ জুলাই আশ্বিনা, ১৫ জুলাই থেকে গৌরমতি আম সংগ্রহ করা যাবে।

নগরীর বড়ো আড়ৎ মোহাম্মাদিয়ার প্রতিনিধি ঈদ উল আজহার পর থেকে নগরীতে আম আসার আশ্বাস দিয়েছেন। বলেছেন, ‘চাপাই নবাবগঞ্জের কানসাট, সাপাহাট, নাটরের রহনপুর, রাজশাহীর আলানী ও ভাগা হাট থেকে আম আসতে শুরু করবে। কাটিমন, হিমসাগর ও ল্যাংড়া মে মাসের শেষ দিক থেকে বাজারজাত হবে। স্থায়ী বাজরে সাতক্ষীরার উৎপাদিত আমের মজুত বেশি থাকায় উত্তরের চাষিরা বেশি দামের আশায় ঈদের পরে পাঠাতে শুরু করবে। সাতক্ষীরার গোপালভোগ কেজিপ্রতি প্রকারভেদে পাইকারি মূল্য ১৫-২৫ টাকা, গোবিন্দভোগ ৩০-৪৫ টাকা, হিমসাগর ৪০-৪৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। নগরীর কদমতলার ২৫টি আড়তের মালিক এবারে আমের আমদানির পরিমাণ বাড়ানোর জন্য দাদন দিয়েছে।’ এ ব্যবসায়ী জানান, ‘৫ জুন নাগাদ ট্রাক যোগে আম আসতে শুরু করবে।’

নগরীর থানার মোড়ের ক্ষুদে ব্যবসায়ী রূপসার নন্দনপুরের অধিবাসী মোঃ নাজির মৃধা গতকাল মঙ্গলবার দুপুর থেকে বিকেল ৫টা নাগাদ ৩ কেজি আম বিক্রি করেছেন। সাতক্ষীরার উৎপাদিত গোপালভোগ ও গোবিন্দভোগের দাম কেজি প্রতি ৮০ টাকা বলে তিনি জানিয়েছেন। মৌসুমের শুরুতে গত সপ্তাহে প্রতি কেজির খুচরা মূল্য ছিল একশ’ টাকা। ক্ষোভের সাথে বলেন, বাজারে মন্দাভাব চলছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে, খুলনার সহকারী স্টেশন মাস্টার দুলদুল হোসেন উত্তর থেকে আম দক্ষিণে আসার জন্য তিনটি ট্রেনের লাগজ ভ্যান প্রস্তুত বলে বার্তা দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন সন্ধে সাড়ে ৬টা, রাত সাড়ে ৮টা ও রাত সাড়ে ১২টায় আম বোঝাই লাগেজ ভ্যান খুলনা স্টেশনের এসে পৌঁছাবে। ব্যবসায়ীদের জন্য সবসময় বিশেষ সুবিধা আছে।’

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন