বৃহস্পতিবার । ৭ই মে, ২০২৬ । ২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
জমির মালিকরা ছয় মাস যাবৎ ধরণা দিচ্ছে প্রশাসনের দ্বারে

অধিগ্রহণের টাকা না পেয়ে রাস্তায় বাঁশের বেড়া

পাইকগাছা প্রতিনিধি

পাইকগাছায় ভূমি অধিগ্রহণের টাকা না পেয়ে বাঁশের বেড়া দিয়ে সড়ক উন্নয়ন কাজ বন্ধ করে দিয়েছে বিক্ষুব্ধ জমির মালিকরা। ফলে যথা সময়ে কাজ শেষ না হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঘটনাটি উপজেলার খুলনা-পাইকগাছা প্রধান সড়কের কার্তিকের মোড় নামক স্থানে। গত ১ মে শুক্রবার সকালে।

সড়ক ও জনপদ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে শুরু হয় খুলনার কয়রা বেতগ্রাম আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২২ সালের জুনে। শুরুতে প্রকল্পে বরাদ্দ হয় ৩৩৯ কোটি টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ পরবর্তী সময়ে কয়েক দফায় বাড়ানো হয়; সে বরাদ্দ বাড়ে ৫০ কোটি টাকা। তবে ভূমি অধিগ্রহণের জটিলতায় ৬ বছরেও সড়কের কাজ শেষ হয়নি। সর্বশেষ বর্ধিত মেয়াদ অনুযায়ী চলতি বছরের ৩০ জন কাজ শেষ হওয়ার কথা। যদিও এ পর্যন্ত কাজটির অগ্রগতি ৭৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ।

প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের কারা-বেতগাম সড়ক উন্নয়নে ২০১৯ সালের একনেক সভায় অনুমোদন পায় প্রকল্পটি। ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি প্রকল্পটি বাস্তবায়নে কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোজাহার এন্টারপ্রাইজ। প্রথম দফায় ২০২২ সালের ৩০ জুন কাজ শেষ করার কথা। তবে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ৪ দফায় সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু এতেও প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হওয়ায় তাদের কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তবে এ মুহূর্তে কাজটি করতে আগ্রহী নয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন দেখা যায়, অধিগ্রহণকৃত সড়কের উত্তর-দক্ষিণ মুখে খুঁটি পুঁতে ও বাঁশ টানিয়ে বেড়া দিয়েছেন জমির মালিকরা।

জমির মালিক লেয়াকত মোড়ল বলেন, অধিগ্রহণকৃত স্থানে আমার ঘর ছিল। ঘর ভেঙে সড়কের কাজ করছে। আমি পরিবার নিয়ে অন্যের মৎস্য ঘেরের বাসায় পরিবার নিয়ে থাকছি। টাকার অভাবে জমি কিনতে পারছি না, আবার নতুন ঘর তৈরি করতে পারছি না। জমি অধিগ্রহণের টাকা তুলতে প্রায় ছয় মাস ধরে খুলনা ডিসি অফিসে বারবার ধরনা দিচ্ছি। আজ নয় কাল করে আমাদের ঘোরানো হচ্ছে। আমরা গরিব মানুষ কাজ না করলে সংসার চলে না। তার উপর বারবার ডিসি অফিসে যেতে যেতে ক্লান্ত হয়ে গেছি। টাকা না পেলে কাজ করতে দেবো না।

আরেক জমির মালিক শাহিনুর সরদার জানান, আমাদের অন্য কোনো জায়গা জমি নেই। ৬ সদস্যের পরিবার নিয়ে ছোট্ট খুপড়ি ঘরে মানবেতর জীবন যাপন করছি। টাকার অভাবে জমি কিনতে পারছি না আবার ঘর ঠিক করতে পারছি না। ডিসি অফিসে ঘুরে ঘুরে দেনা হয়ে গেছি।

যাদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে তারা হলেন, স্থানীয় মোঃ মোমরেজ সরদার, মিঠু সরদার, সালাম সরদার, করিম সরদার, ইব্রাহিম সরদার, বেলজার মোড়ল, রজব মোড়ল, লেয়াকত মোড়ল ও শাহীনুর সরদার।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী তামিমুল হক বলেন, অধিগ্রহণের জমির টাকা পরিশোধের চেক প্রস্তুত আছে কিন্তু জেলা প্রশাসকের স্বাক্ষর না হওয়ায় সেটা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। এদিকে বাঁশ বেঁধে সড়কের কাজ বন্ধ করা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত হয়েছি। দ্রুত সমাধান করার চেষ্টা করছি।

জেলা প্রশাসক ডিসি সম্মেলনে ঢাকাতে অবস্থান করায় তার সাথে যোগাযোগ করে সংযোগ না পাওয়ায় তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন