মঙ্গলবার । ৫ই মে, ২০২৬ । ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩
পাইকগাছার জিরোপয়েন্টে ভোগান্তিতে পথচারীরা

ড্রেন-কালভার্ট ছাড়াই সড়ক নির্মাণ

আসাদুল ইসলাম, পাইকগাছা

পাইকগাছা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ ১৮ মাইল-বেতগ্রাম-তালা-পাইকগাছা-কয়রা হাইওয়ে সড়কের নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। তবে এই উন্নয়ন কর্মযজ্ঞের মাঝেই লুকিয়ে আছে চরম ফাঁকি। সড়কের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পর্যাপ্ত কালভার্ট না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতে জিরোপয়েন্ট এলাকা এখন কাদা-পানি জমে জনভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। উন্নয়নের সুফল পাওয়ার আগেই জলাবদ্ধতার অভিশাপে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার উপক্রম।

সরেজমিন দেখা যায়, জিরোপয়েন্ট এলাকায় খুলনা অভিমুখে গৌতমের মুদির দোকান থেকে দেবব্রত মণ্ডলের মার্কেট পর্যন্ত রাস্তার দুই ধারে কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ফলে বৃষ্টির পানি বের হতে না পেরে মূল সড়কের ওপর বিশাল জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, জিরোপয়েন্টে সামাদের চায়ের দোকানের সামনে পৌরসভার পুরোনো যে কালভার্টটি ছিল সেটি হাইওয়ের নতুন ঢালাইয়ের নিচে পড়ে যাওয়ায় পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। শিবসা নদী নিকটবর্তী হওয়ায় শিববাটি লুইস গেট দিয়ে সরল ৫ নং ওয়ার্ডের পানি এই কালভার্ট দিয়েই বের হতো। কিন্তু নতুন রাস্তাটি উঁচুকরণ ও ঢালাইয়ের ফলে পুরোনো কালভার্টটি এখন কার্যকারিতা হারিয়েছে। বর্তমানে শিববাটি ব্রিজ অভিমুখী প্রধান সড়কের একাংশের কাজ ড্রেনসহ শেষ হলেও জিরোপয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় হাঁটু সমান পানি ও কাদা মাড়িয়ে চলাচল করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। বিশেষ করে বাস, ভ্যান ও মোটর শ্রমিকদের দুর্ভোগ এখন চরমে।

কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘মোজাহার এন্টারপ্রাইজের’ সাইড ইঞ্জিনিয়ার সামী, তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে জানান, “আমাদের বর্তমান কাজের সিডিউলে ড্রেনের জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। ড্রেন করতে গেলে নতুন করে অর্থ বরাদ্দ এবং ভূমি অধিগ্রহণের প্রয়োজন হবে যা সময়সাপেক্ষ। তবে স্থানীয়রা যদি ড্রেনের জন্য জায়গা ছাড়তে লিখিত সম্মতি দেন, তবে আমরা বিষয়টি বিবেচনা করতে পারি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শংকর ঢালী জানান, “ড্রেন হওয়াটা এখন সময়ের দাবি। আমি আমার অংশের জায়গা ছাড়তে রাজি আছি, কিন্তু দু-একজন ব্যক্তি জায়গা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় পুরো প্রকল্পটি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

এলাকাবাসীর দাবি, একবার ঢালাই সম্পন্ন হয়ে গেলে পরে রাস্তা কেটে ড্রেন করা অসম্ভব। এটি রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় ছাড়া আর কিছুই নয়। নির্মাণাধীন রাস্তার উত্তর ও দক্ষিণ মাথায় নতুন কালভার্ট এবং ড্রেন নির্মাণ না করলে এই এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ী রূপ নেবে। আসন্ন বর্ষা মৌসুমে জিরোপয়েন্ট এলাকা সম্পূর্ণ অচল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায়। স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা চরম উদ্বিগ্ন। এই জনদুর্ভোগ লাঘবে এবং টেকসই। উন্নয়নের স্বার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন