শুক্রবার । ১লা মে, ২০২৬ । ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩

দেশে নতুন করে ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরি করা হচ্ছে : ফয়জুল করীম

গেজেট প্রতিবেদন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, শ্রমিকরা সকল আমলেই বঞ্চিত ও নির্যাতিত। রাষ্ট্রের উচিত শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা করা। তাই সকল শ্রেণির মতো শ্রমিকদেরও রাষ্ট্রীয়ভাবে কার্ড প্রদান করতে হবে। সেই কার্ডের অধীনে তাদের চিকিৎসা, খাদ্য ও আবাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি বলেন, প্রাইমারি স্কুলে কওমি মাদরাসা থেকে ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। দেশে নতুন করে যে ‘জঙ্গি নাটক’ তৈরি করা হচ্ছে, তা বন্ধ করতে হবে। শুক্রবার (১ মে) মে দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুফতি ফয়জুল করীম এসব মন্তব্য করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত নির্বাচনে ইসলামের স্বার্থে আমরা সমঝোতা ত্যাগ করেছিলাম। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যরা যখন ইসলামকে উপেক্ষা করে গোপন আঁতাতে লিপ্ত হয়েছে, তখন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে রাজনীতি করেছে।

তিনি বলেন, আমরা কোনো গুপ্ত রাজনীতি করি না; আমাদের সব কার্যক্রমই প্রকাশ্য ও স্বচ্ছ। ইসলামের জন্য ক্ষমতা ত্যাগের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমানে সংসদে পুরনো ‘মুক্তিযুদ্ধ বনাম রাজাকার’ বিতর্ক আবারও উত্থাপিত হচ্ছে, যা জাতির জন্য বিভ্রান্তিকর। বিরোধী দলকে পরিষ্কার করতে হবে যে, তারা শরীয়াহর পক্ষে নাকি প্রচলিত শাসন ব্যবস্থার পক্ষে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান স্পষ্টভাবে ইসলামী শরীয়াহর পক্ষে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত নির্বাচন ছিল সমঝোতা ও ভাগাভাগির নির্বাচন, যার ফলে বিরোধী দল তাদের ভূমিকা নির্ধারণে বিভ্রান্ত। ইসলামের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণে তাদের দলকে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।

সমাবেশে প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, তারা শরীয়াহকে প্রাধান্য দিয়ে বিগত নির্বাচনে এককভাবে অংশ নিয়েছেন এবং এ বিষয়ে কোনো আপস করেননি। তিনি অভিযোগ করেন, ইসলামী সংগঠনের নামে বায়তুল মোকাররম উত্তর গেটে নারীদের নিয়ে মহড়া দেওয়া হচ্ছে, যা অনভিপ্রেত।

সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি সংসদে ভঙ্গ করছে। ‘জুলাই সনদ’ নিয়ে মিথ্যা অঙ্গীকার করে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। তিনি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার দাবি জানান এবং শ্রমিকদের জন্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সহকারী মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে শ্রমিক দিবস পালন হলেও শ্রমিকদের অধিকার নিশ্চিত করা হয় না। তিনি বলেন, ইসলামী শরীয়াহ প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা সম্ভব।

বরগুনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হাসান ওয়ালিউল্লাহ বলেন, ইসলাম শ্রমিকদের যে মর্যাদা দিয়েছে, তা অন্য কোনো ব্যবস্থায় সম্ভব হয়নি। তাই ইসলামী শ্রমনীতি বাস্তবায়নের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন