খুলনায় চার্জার ফ্যানের কদর বেড়েছে। ঘনঘন লোডশেডিং আর ভ্যাপসা গরমে অতিষ্ঠ হয়ে মানুষ ছুটছে ফ্যানের দোকানগুলিতে। তবে অতিরিক্ত মুল্যে তা বিক্রি করছেন সুযোগ সন্ধানী ব্যবসায়ীরা। ক্রেতাদের অভিযোগ গেল দু’বছর আগের তুলনায় এবার চার্জার ফ্যানের দাম বেশি রাখছে। আর বিক্রেতাদের অভিমত ডলারের দাম বেশি থাকায় এ বছর ফ্যানের দাম বেশি।
গত দু’দিন আগেও তীব্র লোডশেডিং থাকার কারণে নগরীসহ পার্শ্ববর্তী জেলা উপজেলায় তেমন একটা বিদ্যুৎ পাওয়া যায়নি। ২৪ ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হয়।
বর্তমানে আগের মতো বিদ্যুৎ না গেলেও ভ্যাপসা গরমের কমতি নেই। বাসা বাড়ি, অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বৈদ্যুতিক ফ্যান ছাড়া টিকে থাকা মুশকিল। তাই লোডশেডিংয়ের হাত থেকে রেহাই পেতে ভিড় করছেন চার্জাার ফ্যানের দোকানে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ বছর ছোট-বড় ফ্যানের দাম বেড়েছে ৮০০ থেকে ১২০০ টাকা। বাজারের বিভিন্ন কোম্পানির চার্জার ফ্যান পাওয়া যাচ্ছে।
খুলনার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মার্কেটে বনি ইলেকট্রিকের কর্মচারী মোঃ রাজীব জানান, ‘গত বছর না থাকলেও এবার ব্যাপকহারে বেড়েছে লোডশেডিং। গত বছর ১২ ইঞ্চি চার্জার ফ্যান ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করলেও এবার তা ৩ হাজার ৩০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। বাজারে ফ্যানের ব্যাপক সংকট আছে। যেখানে ৫০ হাজার ফ্যানের প্রয়োজন সেখানে আসছে ২ হাজার পিস। তিনি আরও বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে বাজারে ফ্যানের চাহিদা বেড়েছে এবং দামও বেশি কাটছে আমদানি কারক প্রতিষ্ঠানগুলো।’
একই মার্কেটের অপর ব্যবসায়ী বিসমিল্লাহ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ সাগর কাজী জানান, ‘দিনে গরম আর রাতে লোডশেডিংয়ের কারণে বেড়েছে চার্জার ফ্যানের চাহিদা। চাহিদার তুলনায় বাজারে কম থাকায় ফ্যানের দাম বেড়েছে। তাছাড়া ডলারের দাম বাড়তি। চায়না থেকে আমদানি করার কারণে ২-৩ হাত বদল হচ্ছে। আর এ বদলের কারণে ফ্যানের দাম অধিক।’
রব শপিং কমপ্লেক্সের আসাদ স্টোরের মালিক জানান, ‘ঢাকার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চার্জার ফ্যানের দাম বাড়িয়েছে। এ বছরের মতো এর আগে এত বেশি চার্জার ফ্যান বিক্রির হিড়িক দেখা যায়নি।’
হারুন ইলেকট্রনিক্সের মালিক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গত এক সপ্তাহে চার্জার ফ্যানের বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। মানুষ এখন বিদ্যুতের ওপর পুরোপুরি নির্ভর করতে পারছে না, তাই বিকল্প খুঁজছে। অনেক সময় স্টক রাখতে পারছি না।’
বিকেলে রব শপিং কমপ্লেক্সে কথা হয় ঝুমুর বেগমের সাথে। তিনি বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে ভ্যাপসা গরম পড়েছে। আজ দু’দিন বৃষ্টি হচ্ছে। এতে কিছুটা ঠান্ডা অনুভুত হলেও গরম যেন কাটছে না। তাই গরমের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য চার্জার ফ্যান কিনতে ছুটে আসা মার্কেটে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ফ্যানের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।’
রূপসা উপজেলার বাগমার এলাকার বাসিন্দা এস এম মাহবুবুর রহমান জানান, ‘একদিকে তীব্র গরম, অন্যদিকে প্রতি ঘন্টায় ঘন্টায় লোডশেডিং। এ গরমে টিকতে না পেরে গত সপ্তাহে চার্জার ফ্যান কিনতে গিয়েছিলাম। কিন্তু দোকানে গিয়ে দেখি ফ্যানের তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা বেশি। যে কারণে ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিচ্ছেন বিক্রেতারা।
খুলনা গেজেট/এনএম

