খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ডিসিপ্লিনের উদ্যোগে ‘স্বেচ্ছামৃত্যুর পাঠবৃত্ত’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ নম্বর একাডেমিক ভবনের মাল্টিপারপাস রুমে ‘কথা হোক বিস্তর: উপভোগ্য হোক জীবন নামক অবিকল্প উপহার’ প্রতিপাদ্যে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. রেজাউল করিম। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা কমাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে মোটিভেশনাল সেমিনার, কাউন্সেলিং কার্যক্রম এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নিয়োগসহ বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক ও সহপাঠীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার করা জরুরি। এ ধরনের ঘটনা চলমান থাকলে তা অন্যদের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধের চর্চার মাধ্যমে এ ধরনের প্রবণতা রোধে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদ খান বলেন, গত দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ে একাধিক আত্মহত্যা ও আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। একজন মানুষের সঙ্গে অনেক মানুষের জীবন ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সহমর্মিতা বাড়ানো প্রয়োজন। আবেগপ্রবণ হয়ে কোনো চরম সিদ্ধান্ত না নেওয়ার জন্য তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
সেমিনারে কী-নোট স্পিকার হিসেবে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কথাসাহিত্যিক ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধান ডা. মামুন হুসাইন। তিনি বলেন, আত্মহত্যা বা স্বেচ্ছামৃত্যুর পথে যারা অগ্রসর হয়, তাদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই বিষণ্নতায় ভোগে। তবে এটিকে একক কোনো রোগ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এটি নানা মনস্তাত্ত্বিক ও সামাজিক কারণের সম্মিলিত ফল।
তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক পরিসংখ্যানে প্রতি বছর প্রায় ৮ লাখ মানুষ আত্মহত্যার মাধ্যমে জীবন হারায়, যার মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশই মধ্য ও নিম্ন আয়ের দেশের মানুষ। এ প্রবণতা আমাদের সমাজের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
এ ছাড়া তিনি আত্মহত্যা প্রসঙ্গে বিশ্বের খ্যাতিমান লেখক, কবি ও দার্শনিকদের বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে বলেন, সভ্যতার অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের মানসিক জটিলতাও বেড়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজ—সবার সম্মিলিত সচেতনতা এবং সহমর্মিতার বিকল্প নেই।
বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রধান এবং কলা ও মানবিক স্কুলের ডিন প্রফেসর ড. মো. দুলাল হোসেনের সভাপতিত্বে সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. শেখ মো. রজিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে কী-নোট স্পিকারকে ডিসিপ্লিনের পক্ষ থেকে সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ১ম বর্ষের শিক্ষার্থী অনুসূয়া মন্ডল ও ঋত্তিকা কর্মকার। এ সেমিনারে বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধানসহ শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন।

