সেমিস্টার ফি দিতে না পারার করানেই নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির এক শিক্ষার্থী উৎস আত্মহত্যা করে।
জানা গেছে, উৎস’র নিকট সেমিস্টারের বকেয়া ফি ছিল ৭৬ হাজর ৮১৬ টাকা। পরীক্ষা অনুষ্ঠানের দিন ছিলো গতকাল মঙ্গলবার। ঘটনার দিন সকালে সে কর্তৃপক্ষের নিকট ফি পরিশোধের জন্য সময় চেয়ে আবেদন করেছিল। কর্তৃপক্ষ তাকে অভিভাবকদের দিয়ে কথা বলার জন্য জানিয়েছিল। পরে রাত ৮টার দিকে মা-বাবার সাথে কথাও বলে উৎস রায়। কিন্তু এর আধাঘন্টা পর তার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
গতকাল মঙ্গলবার ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় উৎস রায়ের মামা খুলনা সদর থানায় অপমৃত্যু মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ ও সহপাঠীরা জানায়, উৎস রায় খুলনা নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির স্প্রি-২২ এর সিএসই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। সে দাকোপ উপজেলার রামনগর গ্রামের কনক কান্তি রায়ের ছেলে। তার বাবা একজন শিক্ষক।
ওই সূত্রটি আরও জানায়, উৎস রায়ের বকেয়া পাওনা ছিল ৭৬ হাজার ৮১৬ টাকা। গত সোমবার উৎস পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি আবেদন করেছিলেন। যেখানে সে এক মাসের মধ্যে ফি পরিশোধের সময় চেয়ে অনুরোধ জানান কর্তৃপক্ষকে। আবেদনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএসই বিভাগের হেড অব ডিপার্টমেন্ট মেহেদী হাসান গ্রহণ করেন।
ভাইস চ্যান্সেলর কানাই লাল সরকার বলেন, আবেদনটি পাওয়ার পর তার বাবা-মাকে যোগাযোগ করতে বলা হয়। কিন্তু তার কোনো অভিভাবক আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।
কানাই লাল সরকার আরও বলেন, শিক্ষার্থী উৎসের মৃত্যুতে মঙ্গলবারের সকল পরীক্ষা এক সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে।
উৎসের মামা কৌসিক রায় বলেন, সন্ধ্যার পর সে তার বাবা-মায়ের সথে কথা বলেছিল। বকেয়া ফি বাবদ সে ৩৫ হাজার টাকার কথা বলেছিল। আপাতত ১০ হাজার দিলে হবে বলেও জানায় সে। তার বাবা বলেছিলেন, সকালে বাজারে গিয়ে বিকাশের মাধ্যমে টাকা দেবেন।
খুলনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, ‘পারিবারিক হতাশা থেকে সে আত্মহত্যা করেছে। প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।’
খুলনা গেজেট/এনএম

