মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ঘোষণা করেছেন, যদি হরমুজ প্রণালি অবিলম্বে ও নিরাপদে পুনরায় চালু করা হয়, তাহলে তিনি ইরানের সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলা দুই সপ্তাহের জন্য স্থগিত রাখবেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ইরানের কাছ থেকে একটি ১০ দফা প্রস্তাব পাওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যা যুক্তরাষ্ট্রের মতে ‘আলোচনার জন্য একটি কার্যকর ভিত্তি’ হতে পারে।
তবে ইরানের দেয়া এই ১০ দফা প্রস্তাবে এমন কিছু শর্ত রয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। সোমবার ট্রাম্প এই প্রস্তাবকে গুরুত্বপূর্ণ বললেও ‘যথেষ্ট ভালো নয়’ বলে মন্তব্য করেন।
প্রস্তাবটির কোনো আনুষ্ঠানিক পূর্ণাঙ্গ কপি প্রকাশ করা হয়নি, তবে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করেছে, যেখানে নিম্নলিখিত দাবিগুলো উল্লেখ রয়েছে:
• ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সমন্বয়ে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করতে হবে।
• ইরানের ‘প্রতিরোধ অক্ষদের’ সব অংশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ বন্ধ করতে হবে।
• এই অঞ্চলে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব সামরিক ঘাঁটি ও মোতায়েন স্থান থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে।
• হরমুজ প্রণালিতে একটি ‘নিরাপদ চলাচল প্রোটোকল’ স্থাপন করতে হবে।
• ইরানকে সম্পূর্ণ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
• সব ধরনের প্রাথমিক ও গৌন নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে হবে, পাশাপাশি বোর্ড অব গভর্নরস ও নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো বাতিল করতে হবে।
• বিদেশে থাকা ইরানের সব অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করতে হবে।
ইরানের এসব দাবির কোনোটি যুক্তরাষ্ট্র নীতিগতভাবে মেনে নিয়েছে কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। শুক্রবার পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে এসব বিষযে আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেছেন, এই ১০ দফা প্রস্তাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ১৫ দফা প্রস্তাব—উভয়ই আলোচনার ‘ভিত্তি’ হিসেবে কাজ করবে।
খুলনা গেজেট/এনএম

