মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত নতুন মাত্রা পেয়েছে। একযোগে তিনটি ভিন্ন দিক থেকে হামলার মুখে পড়েছে ইসরায়েল। ইরান, ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী এবং লেবাননের হিজবুল্লাহর আক্রমণে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেলে জেরুজালেমের কাছে ইশতাওল শহরে ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
ইসরায়েলি বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়।
সামরিক বাহিনীর তথ্যমতে, ক্ষেপণাস্ত্রটি ক্লাস্টার বোমা নয়, বরং সাধারণ ওয়ারহেড ব্যবহার করা হয়েছিল। এই হামলায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন এবং প্রায় ১৫০ মিটার এলাকায় ভবন ও একটি পার্কিং লটে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এরই মধ্যে, শনিবার সকালে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী দক্ষিণ ইসরায়েলের বীরশেবা ও আশপাশের এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হামলার ফলে পুরো অঞ্চলে সাইরেন বেজে ওঠে। হুতিরা দাবি করেছে, তারা “সংবেদনশীল ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনাগুলো” লক্ষ্য করে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। তবে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী জানিয়েছে, ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সফলভাবে প্রতিহত করা হয়েছে।
হুতিদের এই হামলা আসে তাদের একদিন আগের হুঁশিয়ারির পর, যেখানে তারা জানিয়েছিল—যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে নতুন কোনো জোট গঠিত হলে বা লোহিত সাগর ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালানো হলে তারা সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ করবে। হুতিদের মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘প্রয়োজনে সরাসরি যুদ্ধে জড়াতে আমরা প্রস্তুত।’
অন্যদিকে, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘর্ষে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর হতাহতের ঘটনাও বেড়েছে। শুক্রবার ও শনিবার রাতভর সংঘর্ষে দুইজন সেনা গুরুতর আহত এবং সাতজন মাঝারি ধরনের আহত হয়েছেন। এক ঘটনায় হিজবুল্লাহর ছোড়া অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রে দুইজন কর্মকর্তা আহত হন। অন্যদিকে, রাতের হামলায় রকেট ও ড্রোন হামলায় আরও কয়েকজন সেনা আহত হন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, একসঙ্গে তিনটি ফ্রন্টে হামলার এই পরিস্থিতি ইসরায়েলের জন্য বড় ধরনের সামরিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। মধ্যপ্রাচ্যে এই উত্তেজনা দ্রুত বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

