শনিবার । ২৮শে মার্চ, ২০২৬ । ১৪ই চৈত্র, ১৪৩২

এক নারীর সহযোগিতায় আরেক নারীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, গ্রেপ্তার ৬

গেজেট প্রতিবেদন

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী নারীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- চুয়াডাঙ্গা পৌরসভাধীন সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের মিজান, সামাদ আলী, আদম, শাহজাহান এবং শিয়ালমারি গ্রামের আব্দুস সালাম।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান জানান, চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন সাতগাড়ী এলাকার বাসিন্দা ওই নারীর (ভিকটিম) সঙ্গে পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে কৌশলে সুসম্পর্ক গড়ে তোলেন একই এলাকার ফয়সালের স্ত্রী কবিতা (৩০)। গত ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে কবিতা ভিকটিমকে ফুসলিয়ে ইজিবাইকে করে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিল তার খালাতো ভাই আব্দুস সালাম। পরবর্তীতে আরেকটি ইজিবাইকে করে তারা চুয়াডাঙ্গা-আলমডাঙ্গা সড়কের দিকে রওনা দেন।

পরে আলমডাঙ্গা থানার খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছে ইজিবাইক চালককে বিদায় করে দেওয়া হয়। এরপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভিকটিমকে জিম্মি করে পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান পালাক্রমে ভিকটিমকে ধর্ষণ করে। এ সময় ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভিকটিমকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর একই রাতেই কবিতা ও ভিকটিমকে ইজিবাইকে করে পুনরায় চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নামিয়ে দেওয়া হয়। বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বামীর জিজ্ঞাসাবাদে ভিকটিম পুরো ঘটনা খুলে বলেন। এরপর ২৮ মার্চ তিনি নিজেই বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন।

মামলা দায়েরের পরপরই সংশ্লিষ্ট সকল আসামিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশনা দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। শনিবার ভোর ৪টার দিকে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। ভিকটিম অভিযোগ দায়ের করার পরপরই আমরা বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নিই। আমাদের দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল পরিকল্পনাকারীসহ জড়িত ৬ আসামির সবাইকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন