শুক্রবার । ২৭শে মার্চ, ২০২৬ । ১৩ই চৈত্র, ১৪৩২

বিশেষ পরিস্থিতিতে আমিরাতে উদযাপিত হলো স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস

ফরহাদ হুসাইন, আরব আমিরাত

আরব আমিরাতে চলমান বিশেষ পরিস্থিতির মধ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটে বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) পালিত হয়েছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। পরিস্থিতি বিবেচনায় সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের শান্তি-নিরাপত্তা এবং সরকারের নেতৃত্বে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করা হয়।

বাংলাদেশের অভ্যুদয় ও স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রাণ বিসর্জনকারী সকল শহীদ, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, ১২ লাখ আমিরাত প্রবাসীর প্রত্যেকে যেন ভালো কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে শ্রদ্ধাশীল ও দায়িত্বশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশের সম্মান ও মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসে— এমন আহ্বান জানান।

দিনের শুরুতে উপস্থিত সকলকে সঙ্গে নিয়ে রাষ্ট্রদূত আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় সংগীতের সঙ্গে পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সূচনা করেন। এরপর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন যথাক্রমে ডেপুটি চিফ অব মিশন শাহানাজ আক্তার রানু, কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ উল্লাহ খান, দূতালয় প্রধান তৌহিদ ইমাম এবং প্রথম সচিব (পাসপোর্ট) রুবাইয়া আফরোজ।

অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশ বিমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যবৃন্দ, জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার স্থানীয় প্রতিনিধিবৃন্দ এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।

পরিশেষে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা, প্রবাসীদের নিরাপত্তা এবং বাংলাদেশের সমৃদ্ধি ও উন্নতি কামনা করে বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান সমাপ্ত হয়।

অনুরূপভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল, দুবাইয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিনের সূচনায় কনস্যুলেট প্রাঙ্গণে কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচির সূচনা করেন। এরপর মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উদযাপনের অংশ হিসেবে কনস্যুলেট মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রেরিত বাণীসমূহ পাঠ করে শোনানো হয়। বাণী পাঠ শেষে এ দিবসের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

আলোচনা পর্বে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে দুবাই ও উত্তর আমিরাতের বাংলাদেশ কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ এবং সাংবাদিকসহ বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। আলোচকগণ স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তারা প্রবাসীদের কল্যাণে নানা ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্রহণের লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে কনসাল জেনারেল মো. রাশেদুজ্জামান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং স্বাধীনতা যুদ্ধের সকল শহীদ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে এ দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরেন এবং প্রবাসীদের কল্যাণে বাংলাদেশ সরকারের নানা পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি সকল প্রবাসীদের প্রতি দল-মত নির্বিশেষে তাঁদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এবং ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ ও দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণের লক্ষ্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণের উদাত্ত আহ্বান জানান।

কাউন্সেলর (শ্রম) ও দূতালয় প্রধান মো. আব্দুস সালাম অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন