আজ ২৮ রমজান। রমজানের আর মাত্র দুই দিন বাকি। ইসলামের হুকুম আহকাম, বিশেষ করে রোজা ও ঈদের সাথে চাঁদের একটি বিশেষ সম্পর্ক আছে। রোজা রাখা বা ভাঙার জন্য চাঁদ দেখা বা দেখার চেষ্টা করাও নবিজির একটি সুন্নত। এতেও সওয়াব পাওয়া যাবে। পবিত্র কুরআনে চাঁদকে একটি ঝুলন্ত ক্যালেন্ডার এবং আল্লাহ তায়ালার কুদরতের নিদর্শন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। চাঁদ দেখা মাত্রই একজন মুমিন ব্যক্তির মহান স্রষ্টার কথা স্মরণে আসে।
রোজা রাখা ও ভাঙার ব্যাপারে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেছেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখ এবং চাঁদ দেখে রোজা ভাঙ (মেশকাত: মুসলিম)। ঈদের চাঁদ দেখার ব্যাপারে নবী করীম (সাঃ)-এর নির্দেশ হলো, যদি মেঘের কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে রোজা ৩০ টি পূর্ণ কর (সহিহ মুসলিম)। চাঁদ দেখার জন্য কোনো দূরবীক্ষণ যন্ত্র অথবা হেলিকপ্টারের সহায়তা নেওয়াও সমীচীন নয়। কারণ এটি বৈজ্ঞানিকভাবে সত্য যে, যদি বিমান বা কোনো নভোযানের সাহায্যে অনেক উপরে উঠা যায়, তাহলে দেখা যাবে যে সূর্য অথবা চাঁদ কখনই ডুবছে না। সুতরাং সেই ক্ষেত্রে রাত দিনেরও কোনো হদিশ পাওয়া যাবে না। এইজন্য চাঁদ খালি চোখেই দেখতে হবে। আর খালি চোখে দেখা চাঁদই আমাদের জন্য প্রযোজ্য। নিজ চোখে চাঁদ দেখার চেষ্টা করাও নবিজির একটি সুন্নত। এটি একটি অত্যন্ত সহজ হিসাব এবং সবার জন্য এটাই সুবিধাজনক। এর ভিতরে কোনো জটিলতা নেই। একটি দেশের মধ্যে যদি কোনো এক জায়গায় চাঁদ দেখা যায়, তাহলে তা সেই দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে। তবে হাদিসে বর্ণিত আছে যে, এক দেশের চাঁদ অন্য দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে না (সহিহ মুসলিম)।
উদাহরণস্বরূপ, সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের চাঁদ আমাদের দেশের জন্য প্রযোজ্য হবে না। ইসলাম অত্যন্ত সহজ একটি ধর্ম। চাঁদ দিগন্তে থাকুক বা না থাকুক, যদি মেঘের কারণে বা অন্য কোনো কারণে চাঁদ দেখা না যায় তাহলে ৩০ টি রোজা পূর্ণ করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং হিসাব অত্যন্ত সহজ ও পরিষ্কার। নতুন চাঁদ দেখে আল্লাহর রসুল (সাঃ) আমাদের এই দোয়া পড়ার কথা বলেছেন, “আল্লাহুম্মা আল্লাহু আলাইনা বিল আমনি ওয়াল ঈমা-নি ওয়াছ ছালামাতি ওয়াল ইসলামি, রব্বী ওয়া রব্বুকাল্লাহ; হিলা-লু রুশদি ওয়া খইর। অর্থ : হে আল্লাহ, এই চাঁদকে আমাদের ওপর উদিত কর নিরাপত্তা, ঈমান, শান্তি ও ইসলামের সাথে। হে চাঁদ তোমার ও আমার প্রভু একমাত্র আল্লাহ (তিরমিজী)।”
খুলনা গেজেট/এনএম

