বুধবার । ১১ই মার্চ, ২০২৬ । ২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২

মাগফিরাতের দশকে ক্ষমা পেলাম কি?

ড. আবু যুবায়ের

আজ ২০ রমজান। পবিত্র মাহে রমজানের মাগফিরাত দশক আজ শেষ হচ্ছে। এখন আমাদের হিসাব মেলানো দরকার যে পবিত্র রমজান মাসে মাগফিরাতের দিন গুলোতে আমরা কী অর্জন করলাম। আসলেই কী আমরা মাগফিরাত বা ক্ষমা প্রাপ্ত হয়েছি? হাজারো পাপে ভরা আমলনামা কত নেকীর দ্বারা পরিবর্তিত হয়েছে। যদি না হয়, তাহলে তো আমাদের মতো হতভাগা কেউ নেই।

কারণ আল্লাহর রসুল (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই মাসে মাগফিরাত লাভ করতে পারল না সেই প্রকৃত হতভাগা। মহিমান্বিত এই মাস যে বার্তা আমাদের কাছে নিয়ে এসেছিল তার কতটুকু আমাদের জিন্দিগিতে প্রতিফলিত হলো। ব্যবসায়ী বা দোকানদার দিনের শেষে অঙ্ক কষতে বসে, কতটুকু লাভ হলো আর কী পরিমাণ লোকসান হলো? যদি লোকসান হয় কিংবা লাভ কম হয় তাহলে পরিকল্পনা করে, কীভাবে আগামীতে আরও বেশী বেশী লাভ করা যায়। রমজানও এসেছে আখেরাতের এক মহান ব্যাবসা নিয়ে। লাভের পরিমাণও ঘোষণা করা হয়েছে ন্যূনতম সত্তর গুণ, ঊর্ধ্বে অগণিত, মহান আল্লাহর শান অনুযায়ী।

বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের পসরা নিয়ে পবিত্র এই মাস মেহমান হয়ে এসেছে আমাদের আঙিনায়। আমরা কি তার ঠিকমতো সমাদর করতে পেরেছি? রোজার সমস্ত আহকাম কি আমরা ঠিকমতো আদায় করতে পেরেছি এবং দয়ালু মাওলার সাধারণ ক্ষমার আওতায় নিজেকে আনার মতো যোগ্য বানিয়েছি? মাগফিরাতের দশক একেবারে শেষের পথে। আর দেরি না করে এখনই এই সমস্ত প্রশ্নের উত্তর খোঁজা উচিত। যদি উত্তর হাঁ বাইক হয় তাহলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি, আর যদি না বাইক হয় তাহলে মহান আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে মাফ চাই।

কবির ভাষায় বলতে হয়, “শোন মুমিন-মুসলমান/কেঁদে কেঁদে বল-, ভুল করেছি, মাফ করে দাও/ফেলিস চোখের জল”। নিজ পাপের জন্য অনুশোচনা করি এবং ভবিষ্যতে পাপ না করার ওয়াদা করি। কারণ আল্লাহ তায়ালা তো গফুরুর রহিম, তিনি সমস্ত গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন, এতে কারো অভিযোগ উঠানোর এক্তিয়ার নেই। তাই আসুন আর দেরি না করে বাকি দিন গুলোতে মহান আল্লাহর কাছে চোখের পানি ফেলে দোয়া করি যাতে তিনি আমাদের পাপরাশি মোচন করে দেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন