ফকিরহাট উপজেলার ভৈরব নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুর কাজ ঠিকাদারদের অবহেলায় দীর্ঘ ৮ বছরেও শেষ হয়নি। ফলে স্থানীয়দের ঝুঁকি নিয়ে কাঠের পুল ব্যবহার করে নদী পারাপার করতে হচ্ছে। ঢাকা-খুলনা পুরাতন মহাসড়কের ওপর পাকিস্তান আমলের পুরোনো বেইলি ব্রিজের স্থানে ২০১৮ সালে কংক্রিট সেতু নির্মাণের দায়িত্ব পায় ‘মাহবুব ব্রাদার্স’ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু একাধিকবার সময় বাড়িয়েও প্রতিষ্ঠানটি কাজ সম্পন্ন করতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফকিরহাট সদর ও মূলঘর ইউনিয়নের সংযোগরক্ষাকারী এ সেতুটি এলাকার হাজারো মানুষের প্রতিদিনের যাতায়াতের প্রধান ভরসা। সেতুর পাটাতনের কাজ কোনোভাবে শেষ হলেও এখনো রেলিং, সংযোগ সড়ক, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ বাকি রয়েছে। এ অবস্থায় সেতুর এক পাশে অস্থায়ীভাবে কাঠের পুল বসিয়ে চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে সাইকেল ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারলেও ভারী যানবাহন সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাঠের পুলটি বেশ ঝুঁকিপূর্ণ। কোনো ধরনের সুরক্ষা বেষ্টনী নেই, কাঠের তক্তাগুলোও দুর্বল। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এ পথ ব্যবহার করছেন।
ব্রিজসংলগ্ন মূলঘর ইউনিয়নের চরভৈরব গ্রামের বাসিন্দা সোবাহান শেখ, ভ্যানচালক সাদেক আলী ও সবজি চাষি হরিপদ ঘোষসহ স্থানীয়রা জানান, মূলঘর থেকে ফকিরহাট সদরে সেতু দিয়ে সরাসরি দূরত্ব মাত্র ১১০ মিটার। কিন্তু সেতুর কাজ শেষ না হওয়ায় এখন এক কিলোমিটারের বেশি পথ ঘুরে যেতে হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ব্যস্ততম বিশ্বরোড ব্যবহার করতে হয়, যেখানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বেইলি ব্রিজসংলগ্ন মূলঘর এলাকায় একাধিক সরকারি ও বেসরকারি স্কুল-মাদ্রাসা রয়েছে। আবার মূলঘর থেকে ফকিরহাট সদর এলাকায় অবস্থিত বিভিন্ন স্কুল-কলেজে প্রতিদিন কয়েকশ’ শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। সেতুটি সচল না থাকায় তাদের নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এদিকে দীর্ঘসূত্রতায় রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতিও হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত কাজ শেষ করে সেতুটি যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হোক।
বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ফকিরহাট ও মোল্লাহাট এলাকায় মোট ১০টি সেতুর কাজ পায় মাহবুব ব্রাদার্স। ২০১৮ সাল থেকে একাধিকবার সময় বাড়িয়েও তারা ৫-৬টি সেতুর আংশিক কাজ করেছে, বাকিগুলো সম্পন্ন করেনি। একাধিকবার নোটিশ দিয়েও কাজ আদায় সম্ভব না হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটিকে ব্ল্যাকলিস্ট করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েক কোটি টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে কাজ শেষ করতে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।”
এ বিষয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের দাবি, দ্রুত প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন করে সেতুর কাজ সম্পন্ন করা হোক এবং ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের পুলের পরিবর্তে নিরাপদ বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
খুলনা গেজেট/এনএম

