শনিবার । ৭ই মার্চ, ২০২৬ । ২২শে ফাল্গুন, ১৪৩২

মার্চে শুরু স্বাধীনতার সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে চলছে অসহযোগ আন্দোলন। বাঙালি পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীকে খাজনা-ট্যাক্স দিচ্ছে না। ব্যাংক, বিমা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, স্কুল-কলেজ বন্ধ। খুলনা শহরের প্রধান-প্রধান সড়কে ব্যারিকেড। রূপসা থেকে খালিশপুর অবধি শ্রমিক-জনতার মিছিল। বিকেলে মিউনিসিপ্যাল পার্কে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ সমাবেশ।

৬ মার্চ আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি, সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল আজিজ পার্কের শহিদ মিনারের পাদদেশ থেকে ঘোষণা দেন, আগামী কাল নতুন কর্মসূচি আসছে।

শহরবাসী প্রতীক্ষার প্রহর গুনছে ৭ মার্চের জন্য। গল্লামারী রেডিও পাকিস্তান খুলনা কেন্দ্র থেকে বারবার ঘোষণা আসছে, রেসকোর্স ময়দান থেকে ৭ মার্চের ঘোষণা বেতারে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তা মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী এলান জারি করেন, সরকারি নির্দেশ ছাড়া বেতারে কোনো ভাষণ প্রচার হবে না। বাঙালি কর্মকর্তারা জোটবদ্ধ হয়। ঘোষণা দেন, বেতার থেকে ভাষণ প্রচার না করলে তারা কর্ম বিরতি পালন করবেন। পরবর্তীতে শাসকগোষ্ঠী নত স্বীকার করেন। সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হয়, ৮ মার্চ বেতারের সব কেন্দ্র থেকে ভাষণ প্রচার করা হবে। সে অনুযায়ী, তৎকালীন সময় অনুষ্ঠান সংগঠক আব্দুস সাত্তার শেখের তত্ত্বাবধায়নে ৮ মার্চ রেডিও পাকিস্তান খুলনা কেন্দ্র থেকে ভাষণটি প্রচার করা হয়।

এ বেতার কর্মকর্তা সেদিনের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, পাকিস্তানি সেনারা আগে থেকেই রেডিও সেন্টারে অবস্থান নেয়। এ ভাষণ প্রচার হলে তারা নীরবে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। শহরবাসী ভাষণ শুনে দিক নির্দেশনা পান। একাত্তরের ১-২৫ মার্চ পর্যন্ত এ বেতার কেন্দ্র থেকে দেশাত্মবোধক গান, নাটক ও খবর প্রচারিত হয়। ২৬ মার্চের পর থেকে বেতার কেন্দ্র সরাসরি পাকিস্তানিদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত শাসক গোষ্ঠীর তত্ত্বাবধায়নে ইসলামাবাদের নির্দেশনা অনুযায়ী এ বেতার কেন্দ্রে অনুষ্ঠানাদি প্রচার হয়।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন