বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানে দোয়া কবুলের বিশেষ কিছু মুহূর্ত

ড. আবু যুবায়ের

আজ ১৩ রমজান। রমজান মাস হলো দোয়া ও ইবাদতের মাস। এই মাসে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং দোয়া কবুলের সম্ভাবনা অন্যান্য মাসের তুলনায় বহুগুণ বেশি। রমজানের বিশেষ কিছু সময়ে দোয়া দ্রুত কবুল হয়।

১. ইফতারের সময় : রসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় দোয়া কবুল হয় (তিরমিজি)।” অর্থাৎ, রোজাদার যখন সেহরি থেকে ইফতার পর্যন্ত ধৈর্য ধরে রোজা রাখে এবং ইফতারের সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে, সেই দোয়া দ্রুত কবুল হয়।

২. লাইলাতুল কদরের রাত : রমজানের শেষ দশকের কোনো এক রাত লাইলাতুল কদর। হাদিসে রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেন, “যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে সওয়াবের আশায় ইবাদত করে তার পূর্বের সব গুনাহ ক্ষমা করা হয় (বুখারি)।” এই রাতের দোয়া আল্লাহর নৈকট্য ও ক্ষমা লাভের সবচেয়ে সেরা সুযোগ।

৩. ফরজ ও নফল নামাজের পরে : ফরজ ও নফল নামাজের পরে দোয়া করা খুবই কার্যকর। রসুলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি নামাজ শেষে দোয়া করে, আল্লাহ তার দোয়া শুনেন (মুসলিম)।” বিশেষভাবে রমজানে ফজর, জোহর, আসর, মাগরিব ও ইশার নামাজের পরে দোয়া ও জিকির করা যায়।

৪. সেহরি ও রাতের শেষাংশ : রসুলুল্লাহ (সঃ) প্রায়ই রাতে নফল নামাজের মধ্যে দোয়া করতেন। সেহরির সময়ও শান্ত হৃদয় নিয়ে দোয়া করলে তা কবুল হবার সম্ভাবনা অনেক বেশী।

৫. আছরের পর : আছর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দোয়া ও যিকিরের সময়। এ সময়ের দোয়া অধিক কার্যকরী।

তা ছাড়া, পুরা রমজান মাসই দোয়া কবুলের সময়। এ কারণে যখনই মন চায়, আমরা দোয়া করতে পারি। কুরআনে আল্লাহ বলেন : “আমার বান্দারা যখন তোমার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে, আমি তো নিকটেই আছি; আমি প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করি (সুরা আল-বাকারাহ ২:১৮৬)।”

রমজান মাসে বিশেষ এই মুহূর্তগুলোতে আন্তরিকতা, আশা ও ধৈর্যের সঙ্গে দোয়া করলে আল্লাহপাক করুণা করে আমাদের দোয়া কবুল করবেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন