বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২

মার্চে শুরু স্বাধীনতার সংগ্রাম

নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরের মার্চের শুরু থেকে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পূর্ব পাকিস্তান নামক ভূ-খণ্ড। খুলনায় পাঞ্জাবি সেনা ও বেলুচ পুলিশ মোতায়েন হতে থাকে। এ শহর নিয়ন্ত্রণ করত যশোর সেনানিবাস। তখন যশোর সেনানিবাসের দায়িত্বে ছিলেন মেজর জেনারেল আনসারি। খুলনায় দায়িত্ব পালন করতেন লে. কর্নেল শামস-উজ-জামান। পাকিস্তানি বাহিনীরা বাঙালি পুলিশ ও ইপিআরের সদস্যদের চোখে চোখ রাখতেন। ইপিআর ক্যাম্প ছিল নতুন বাজারের বিপরীতে। ইপিআরের বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করা হয়। শহরের স্কুল-কলেজ সব বন্ধ। পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেনারেল ইয়াহিয়া খান জাতীয় সংসদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করার পর ছাত্ররা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ৩ মার্চ মিউনিসিপ্যাল পার্ক (আজকের হাদিস পার্ক) থেকে জঙ্গি মিছিল বের হয়। মিছিলের স্লোগান ছিল ‘বীর বাঙালি অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন কর’। মিছিলটি লোয়ার যশোর রোড দিয়ে স্টেট ব্যাংক অব পাকিস্তান, খুলনা (আজকের বাংলাদেশ ব্যাংক) অতিক্রম করলে টিএন্ডটি’র বাংকার থেকে বেলুশ পুলিশ গুলি চালায়। গুলিতে কয়েকজন নিহত ও আহত হয়। জেলা আওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি, জাতীয় সংসদ সদস্য শেখ আব্দুল আজিজ আহতদের খোঁজখবর নেন। বিকেলে পার্কে গায়েবানা জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রলীগের কাছে মুক্তিযুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। অস্ত্র সংগ্রহের প্রয়োজনে ছাত্ররা কালিবাড়ি ও কেডি ঘোষ রোডের বন্দুকের দোকান লুট করে। পাক সেনারা বিপাকে পড়ে।

এককথায় সার্কিট হাউজের মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়। পুলিশ সুপার খন্দকার আব্দুল রকিব মানসিকভাবে জঙ্গি-জনতার পক্ষে অবস্থান নিলে পাক সেনাদের গোয়েন্দা সংস্থার নজরদারিতে পড়ে। ২৫ মার্চ তাকে নজরবন্দি করে। খালিশপুর, পশ্চিম বানিয়াখামার ও ফেরিঘাট এলাকার বিহারিরা পাক বাহিনীর পক্ষে অবস্থান নেয়। বাঙালি হত্যার নীল নকশায় মেতে ওঠে। শহরের শিপইয়ার্ড, বয়রা সার্কিট হাউজ ও রুজভেল্ট জেটি এলাকায় সেনা ছাউনি গড়ে ওঠে। সার্কিট হাউজ থেকে ২২ এফ রেজিমেন্ট সেনা ছাউনিগুলো নিয়ন্ত্রণ করত।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন