বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২

পাইকগাছায় গত মাসে ৪ জনকে অপহরণের পর মুক্তিপণের বিনিময়ে উদ্ধার, জনমনে আতঙ্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

পাইকগাছায় গ্রামগঞ্জে এখন অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের আতঙ্ক চলছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে পাইকগাছা উপজেলার গড়ইখালী ইউনিয়নের বাসাখালি গ্রামের একটি মৎস্য লিজ ঘের থেকে শেখ ইমরান হোসেন রিপন (৫৫) ও ও নাদির হোসেন লিটন (৩৫) কে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রাতে একদল অপহরণকারী অপহরণ করে।

উক্ত বিষয়ে পাইকগাছা থানায় ২৬ ফেব্রুয়ারি একটি সাধারণ ডায়েরি হয়। যার নং ১২১৪।

এর আগে পাইকগাছা উপজেলার বাতিখালি গ্রামের আব্দুল মান্নানের পুত্র ইমন হোসেন বাপ্পি ও সরল গ্রামের পল্লব নামের এক যুবককে খুলনা থেকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। ইমন হোসেন বাপ্পি ও পল্লবকে অপহরনের ছয় দিন পর ৭ লক্ষ টাকা চুক্তিতে মুক্তিপন দিয়ে তারা উদ্ধার হয়েছে। তবে অপহরণকারীরা ইমন ও পল্লবের কাছে থাকা স্বর্ণালংকার, মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন ফেরত দেয়নি।

ঐ অপহরণ আতঙ্কের মধ্যে মৎস্য লিজ ঘের থেকে ইমরান হোসেন রিপন ও নাদির হোসেন লিটনকে অপহরণকারীরা মুক্তিপণের দাবিতে অপহরণ করে। অপহরণের চার দিন পর দুই লক্ষ পঞ্চাশ হাজার টাকা মুক্তিপণের বিনিময়ে স্থানীয় একজন ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতার মধ্যস্তয় উদ্ধার হয়।

উদ্ধারের পর উদ্ধারকৃতরা অপহরণের প্রকৃত ঘটনা প্রকাশ না করলেও অপহরণকারীরা তাদেরকে অপহরণ করে সুন্দরবন এলাকায় জিম্মি রাখে। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে এখনো ভয় ও আতঙ্কের ছাপ বিরাজ করছে।

তাছাড়া অপহরণকৃত ব্যক্তিদের পরিবারের মধ্যে খোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। অপহরণ বিষয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের মধ্যে কোন উদ্বেগ উৎকন্ঠা না থাকায় সর্বস্তরের জনগণের মধ্যে এখন অপহরণ আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগে বন ও পরিবেশমন্ত্রী খুলনায় এলে সেখানে সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে খুলনা-৬ এর বিএনপি’র প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি কয়রা পাইকগাছার বিভিন্ন মানুষসহ সুন্দরবনে জলদস্যুদের তৎপরতা সহ অপহরণ বন্ধের জন্য মন্ত্রীর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

কয়রা-পাইকগাছার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন অপহৃতদের দ্রুত উদ্ধারসহ অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং জনগণের জানমালের নিরাপত্তা বিধানের জন্য প্রশাসনকে বলেছি। বিষয়টি সরকারকে জানিয়ে কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন মহল জানতে চায়? অপহৃতরা কাকে কিভাবে মুক্তিপণ দিয়ে মুক্তি পেয়েছে, তা তদন্ত করে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় আনা হোক। নইলে এভাবে অপহরণ অব্যহত থাকলে এ অঞ্চলের মানুষ জান মালের নিরাপত্তাহীনতায় থাকবে।

থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: গোলাম কিবরিয়া বলেন, দোষীদের বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কি কারণে তাদেরকে অপহরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন