বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২
নির্বাচনোত্তর রাজনীতি

সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে খুলনায় গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্টের পরাজয়

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই সনদে নেতিবাচক মনোভাবের পর ২৯ দফা ইশতেহার দিয়েও গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনি আলোচনায় আসতে পারেনি। খুলনা জেলার ৬ টি আসনে তিনটিতে যুক্তফ্রন্টের প্রার্থীদের পরাজয় হয়েছে। নির্বাচনি ভাষায় জামানত বাজেয়াপ্ত। ফ্রন্টের ৯টি শরীকদল থাকলেও সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে পরাজয় হয়েছে। সিবিপি ও বাসদ বাম ঘরনায় আলোচিত হলেও চারটি আসনের প্রত্যেকটি কেন্দ্রে এজেন্ট দিতে পারেনি।

স্থানীয় সিপিবি কার্যালয়ে বাম গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের নির্বাচন পরবর্তী মূল্যায়ন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফ্রন্টের সমন্বয়ক কোহিনুর হক কনা সভাপতিত্ব করেন। নির্বাচন পরবর্তী অংশ নেওয়া চারটি আসনের চিত্র তুলে ধরেন সিবিপি’র এসএ রশীদ, আব্দুল হান্নান, বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগের গাজী নওশের আলী, দেলোয়ার হোসেন, বাসদের জনার্দন দত্ত নান্টু, আব্দুল করিম, সরজিৎ মন্ডল আলোচনায় অংশ নেন।

মূল্যায়ন সভায় তারা উল্লেখ করেন কাষ্টিং ভোটের চেয়ে খুলনা-৩ আসনে ফলাফলে ভোটের সংখ্যা বেশি ছিল। আর্থিক সংকট, প্রয়োজনীয় কর্মীর অভাব এবং বুর্জোয়া নির্বাচন ব্যবস্থার সংস্কৃতির বেড়াজাল থেকে বের হতে পারেনি। ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট কেন্দ্রেগুলোর অবস্থা বামদের প্রতিকুলে ছিল। বিশেষ করে খুলনা-৩ আসনে শরীক দলগুলো সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী ছিলনা। তারা জনতার রায় নিতে সাংগঠনিক ভিত শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রিটার্নিং অফিসারের ঘোষণা অনুযায়ি যুক্তফ্রন্টের খুলনা-১ আসনের প্রার্থী কিশোর কুমার রায় (সিপিবি) ৪ হাজার ৭৪২ ভোট, খুলনা-৩ আসনে জনার্দন দত্ত নান্টু (বাসদ) ২৪৬ ভোট, খুলনা-৫ আসনে চিত্তরঞ্জন গোলদার (সিপিবি) ১ হাজার ৭০৬ ও খুলনা-৬ আসনে প্রশান্ত কুমার মন্ডল (সিপিবি) ১ হাজার ৫৭১ ভোট পান।

দলের সূত্র উল্লেখ করেন, খুলনা-২ ও খুলনা-৪ আসনে যুক্তফ্রন্ট কোনো প্রার্থী দিতে পারেনি। খুলনা-২ আসনে সিপিবি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স প্রার্থী হওয়ায় উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত তিনি পিছিয়ে যান। কেন্দ্রীয় সম্মেলনে তিনি প্রত্যাবর্তন করতে পারেনি। বাংলাদেশ জাসদের এবং বিপ্লবী কমিউনিষ্ট লীগের প্রার্থী ছিল না।

ফ্রন্টের স্থানীয় সমন্বয়ক কোহিনুর হক কনা বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরে বলেন, নির্বাচনি দিনের বাস্তব অবস্থা তাদের অনুকুলে ছিলনা। খুলনা-৩ আসনে শরীক দলগুলোর সমর্থন ছিল। কিন্তু সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে তারা কঙ্খিত লক্ষে পৌছাতে পারেনি।

নির্বাচন কমিশনের সূত্র অনুযায়ি ১৯৯১ সালের নির্বাচনে খুলনা-১ আসনে সিপিবি’র প্রার্থী অচিন্ত্য কুমার বিশ্বাস ১২ হাজার ৫১২ ভোট, ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে ১৮ হাজার ৩৯৮ ভোট, খুলনা-২ আসনে সিপিবি মনোনীত এড. এম ফিরোজ আহমেদ ১৯৯১ সালের নির্বাচনে ১ হাজার ৪০৫ ভোট পান।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন