বুধবার । ৪ঠা মার্চ, ২০২৬ । ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানে দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়াই

ড. আবু যুবায়ের

আজ ১১ রমজান। রমজান হলো দয়া, সহমর্মিতা ও মানবিকতার মাস। এ মাসে রোজার মাধ্যমে মানুষ ক্ষুধা ও কষ্টের অনুভূতি উপলব্ধি করে, যা তাকে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রতি আরও সংবেদনশীল করে তোলে। আল-কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন: “তোমরা সালাত কায়েম করও এবং যাকাত প্রদান করও (বাকারা: ৪৩)।” এই নির্দেশনা প্রমাণ করে যে ইবাদতের পাশাপাশি সামাজিক দায়িত্বও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

প্রথমত, যাকাত, সদকা ও দানের মাধ্যমে দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ানো যায়। আল্লাহপাক আরও বলেন, “তাদের সম্পদে রয়েছে নির্ধারিত অধিকার-প্রার্থী ও বঞ্চিতের জন্য (আয-যারিয়াত ৫১:১৯)।” রমজানে যাকাত আদায় করলে সওয়াব বৃদ্ধি পায় এবং অসহায় মানুষ রোজা ও ঈদের আনন্দে অংশ নিতে পারে। এছাড়া নফল সদকা-যেমন খাদ্য, বস্ত্র বা অর্থ সহায়তা-দরিদ্রদের কষ্ট লাঘবে বড় ভূমিকা রাখে।

দ্বিতীয়ত, ইফতার করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, “যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব পাবে; তবে রোজাদারের সওয়াব থেকে কিছুই কমবে না (তিরমিজি)।” তাই রমজানে গরিব ও শ্রমজীবী মানুষদের ইফতার করানো অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ কাজ। মসজিদ, মাদ্রাসা বা কমিউনিটি পর্যায়ে ইফতার বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।

তৃতীয়ত, ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে দরিদ্রদের সহায়তা করা যায়। যাকাতুল ফিতর ঈদের আগে প্রদান করা হয়, যাতে দরিদ্ররাও ঈদের দিনে অভাবমুক্ত থাকতে পারে।

চতুর্থত, শুধু আর্থিক সহায়তাই নয়-সময় ও শ্রম দিয়েও সাহায্য করা যায়। অসুস্থের সেবা, এতিমদের খোঁজখবর নেওয়া, শিক্ষাসামগ্রী প্রদান বা কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করাও দীর্ঘমেয়াদী উপকার। মহানবী (সাঃ) বলেছেন, “মানুষের মধ্যে সেই উত্তম, যে মানুষের জন্য অধিক উপকারী (আল-মু’জামুল আওসাত)।”

রমজান আমাদের হৃদয়কে কোমল করে এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল হতে শেখায়। দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল দান নয়; এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। আমরা যদি আন্তরিকতা সাথে সহায়তার হাত বাড়াই, তবে রমজানের প্রকৃত চেতনা বাস্তবায়িত হবে।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন