ডিসেম্বর-মার্চ পূর্ব পাকিস্তান নামক ভূ-খণ্ড ছিল অস্থিরতার মধ্যে। একদিকে অবাঙালি শাসক গোষ্ঠী, বিপরীতে বাঙালি। ১৯৭০ সালের ৭ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদের ও ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন লাভ করায় শাসক গোষ্ঠী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা করে। এমনকি জামায়তে ইসলামীর নেতা অধ্যাপক গোলাম আযম আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের লক্ষ্যে সরকারের উদ্দেশে এক বিবৃতি দেয়। দৈনিক পাকিস্তানে এ খবর ছাপা হওয়ার পর শাসক গোষ্ঠীর টনক নড়ে। তারপরেও ক্ষমতা হস্তান্তর করেনি।
১৯৭১ সালের ১ মার্চ পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জেঃ আইয়ুব খান এক বেতার ভাষণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সংসদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এ খবর দুপুরে দৌলতপুর সরকারি বিএল কলেজে পৌঁছায়। তখন অনার্স পরীক্ষা চলছিল। সে সময়ের অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদের ভিপি স ম বাবর আলীকে প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অবহিত করেন। পরীক্ষা কক্ষের ছাত্ররা এ অনাকাক্সিক্ষত সংবাদ জানার পর পরীক্ষার খাতা ছিঁড়ে ফেলে হল ত্যাগ করে। পরীক্ষার্থী অধিকাংশ ছাত্রলীগের সমর্থকরা মূল শহরে চলে আসে। ঘটনা চারিদিকে জানাজানি হয়ে যায়।
প্রেসিডেন্টের এ ঘোষণার প্রতিবাদে সন্ধ্যায় আযম খান কমার্স কলেজ থেকে ছাত্রলীগ এক মিছিল বের করে। মিছিলটি বাবুখান রোড হয়ে লোয়ার যশোর রোড দিয়ে হাদিস পার্কের শহিদ মিনারে সমাবেশের আয়োজন করে। শাসক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে সমাবেশ থেকে আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগ নেতারা জনতাকে বার্তা দেয়। চারিদিকে উত্তেজনা বিরাজ করে। খুলনা সরকারি মহিলা মহাবিদ্যালয়, আযম খান কমার্স কলেজ, সিটি কলেজ, সুন্দরবন আদর্শ মহাবিদ্যালয়, সেন্ট জোসেফ্স হাই স্কুল, জিলা স্কুলসহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
খুলনা গেজেট/এনএম

