খুলনা মহানগর বিএনপির বর্তমান কমিটি ভেঙে দেওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা গুঞ্জন চলছে। দলটির সঙ্গে যুক্ত অনেকেই ‘সুখবর অথবা চমক আসছে’ লেখা পোস্ট করে এই গুঞ্জনে বাতাস দিচ্ছেন।
বিষয়টি নিয়ে দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের ফলাফল এবং দলের কিছু নেতার ব্যক্তিগত অপকর্ম নিয়ে হাইকমান্ড অসন্তুষ্ট। ব্যক্তিগতভাবে কয়েকজনকে সতর্কও করা হয়েছে। তবে রমজানের মধ্যে দল পনুর্গঠন নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না।
নেতারা জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। মাঠ পর্যায় থেকে দলের নাম ও পদবী ব্যবহার করে চাঁদাবাজি, দখল এবং দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার ঘটনাগুলো নোট রাখা হচ্ছে। রমজান পরবর্তী কেন্দ্রীয় কমিটির সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এর মধ্যে কেউ বড় কোনো অপকর্ম করলে বা সরকার-দল বিব্রত হয় এমন কিছু করলে তার বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি খুলনা মহানগর বিএনপির সর্বশেষ দ্বি-বার্ষিক সম্মেলন হয়েছিল। সম্মেলনে সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু অনুসারীদের কাউকেই কাউন্সিলর করা হয়নি। ফলে তাদের কেউ প্রার্থীও হতে পারেননি।
সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে বিকেলে জেলা স্টেডিয়ামের জিমনেশিয়াম ভবনে এক পাক্ষিক কাউন্সিল অধিবেশন ৫০৫ জন কাউন্সিলর ভোট দেন। সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা ২৯৯ ভোট পেয়ে সভাপতি নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তরিকুল ইসলাম জহির পেয়েছিলেন ১৮৯ ভোট। অন্য প্রার্থী সাহাজি কামাল টিভি পান ৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে শফিকুল আলম তুহিন ২৮৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নাজমুল হুদা চৌধুরী সাগর পান ২০৩ ভোট। অন্য প্রার্থী কাজী মাহমুদ আলী পান দুই ভোট।
দুই বছর মেয়াদী ওই কমিটির এক বছর অতিবাহিত হলেও তারা এখনও পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করতে পারেননি। এর মধ্যে কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, বড় বাজার কেন্দ্রিক রেলওয়ের জমি দখল, বাজারের ব্যবসায়ীদের হুমকি, নৌপরিবহন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়সহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগ উঠতে থাকে। পুলিশের পক্ষ থেকেও বিষয়টি বিএনপির হাইকমান্ডকে জানানো হয়। নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে সবাই নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এর মধ্যে খুলনা-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুর পরাজয়ের পর বিতর্কের মুখে পড়েন বর্তমান কমিটির নেতারা। ঘাটি হিসেবে পরিচিত খুলনা সদর আসনে দলের পরাজয়ের জন্য বিএনপির মহানগর কমিটির ব্যর্থতা এবং দলীয় কোন্দলকে দায়ী করা হয়।
এমন অবস্থায় গত সপ্তাহে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে ঢাকায় ডেকে পাঠান। তাকে খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই দিন মহানগর বিএনপির কমিটিতেও ভারসাম্য তৈরির আশ্বাস দেওয়া হয়। মূলত এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কমিটি ভেঙে দেওয়ার গুঞ্জন ওঠে।
এ ব্যাপারে নজরুল ইসলাম মঞ্জু বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। কোনো সিদ্ধান্ত হলে তখন সবাই জানতে পারবেন।
খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘মেয়াদের আগে কমিটি ভাঙার কোনো প্রশ্নই আসে না। ফেসবুকে সবই গুজব।’
খুলনা গেজেট/এনএম

