সাতক্ষীরায় প্রচন্ড ঝাকুনিতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫২ মিনিটে এ ভূমিকম্প অনুভূত হয়। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্র ছিল ৫ দশমিক ৪।
ভূমিকম্পের ফলে সাতক্ষীরা শহরের পাকা বাড়ি ঘর কেঁপে ওঠে। এসময় ঘরের আসবাবপত্র ও সিলিং ফ্যান সহ অন্যান্য জিনিসপত্র কাঁপতে থাকে। এতে করে অনেক মানুষ ভয়ে ঘর থেকে বাহিরে বেরিয়ে আসে। হঠাৎ ভূমিকম্পের ঘটনায় মানুষের মাঝে অতংক ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে এই ঘটনায় কোথাও বড় ধরনের কোন ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। তবে উপকূলীয় কালিগঞ্জ উপজেলায় কয়েকটি ভবনের ছাদে ফাঁটল ধরার খবর পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর পরই লোকজন ফোন করে নিকট আত্মীয়দের খোঁজ খবর নিতে শুরু করেন যে, ভূমিকম্পের ফলে কারো কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিনা। ভূমিকম্পের সময় সাতক্ষীরার কলারোয়ার একটি মার্কেটে থাকা ক্রেতারা ভয়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসে। ভূমিকম্পের সময় শ্যামনগর উপজেলা উত্তর হাজিপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের মুসল্লিরা নামাজরত অবস্থায় কান্নায় ভেঙে পড়েন। তারা জানমাল রক্ষায় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।

কালিগঞ্জের মৌতলা গ্রামের মুন্সি মাহমুদুল হক ওরফে মধু জানান, প্রচন্ড ঝাকুনিতে তার একতলা ভবনের ছাদে বেশ কয়েকটি স্থানে ফাঁটল দেখা দিয়েছে। এসময় তার পরিবারের সদস্যরা আতংকিত হয়ে পড়েন। দ্রুত তারা সবাই ঘরের বাইরে চলে আসেন।
আশাশুনির বিছট গ্রামর স্কুল শিক্ষক আবু দাউদ জানান, জুম’আর নামাজ শেষে আমরা বেশ কিছু মুসল্লি মসজিদে বসে ছিলাম। হঠাৎ প্রচন্ড ঝাকুনি দিয়ে ভূমিকম্পের ফলে মসজিদ ঘর কেপে উঠে। এসময় ভয়ে অনেক মসজিদ থেকে দ্রুত বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, আমার জিবদ্দশায় এরকম ভূমিকম্পন আমাদের এই এলাকায় আর কখনো অনুভূত হয়নি।
আশাশুনির মাদিয়া গ্রামের সন্তোষ কুমার জানান, আশাশুনি থানার সামনে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করে প্রচন্ড ঝাকুনি অনুভব করি। এসময় থানার ভিতরে থাকা পুলিশ সদস্যরা ভয়ে দ্রুত বাইরে চলে আসেন।

আনুলিয়া ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার জানান, জুমার নামাজ আদায় করতে মসজিদে থাকা অবস্থায় প্রচন্ড ঝাকুনিতে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। এসময় মসজিদের মুসল্লারা ভয়ে অনেকে দ্রুত বাইরে বেরিয়ে যান। তিনি বলেন, এর আগে কখনো এই অঞ্চলে এতজোরে ভূমিকম্পন অনুভূত হয়নি। হঠাৎ ভূমিকম্পনের ফলে গ্রামের মানুষের মধ্যে আতংক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ঘর ছেড়ে বাইরে চলে আসেন।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষ আতংকিত না হয়ে সবাইকে সর্তক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সাতক্ষীরা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন বলেন, সাতক্ষীরায় ৫ দশমিক ৪ মাত্রায় ভূমিকম্প অনুভূতি হয়েছে। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে।
খুলনা গেজেট/এএজে

