বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২

রমজানে খেজুর, শসা ও লেবুর দাম ঊর্ধ্বমুখী, রোজাদারদের ভোগান্তি

জাহাঙ্গীর আলম

পবিত্র মাহে রমজানে ইফতারের প্রধান খাদ্য খেজুর, শসা ও লেবুর দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তবে গত রমজানের চেয়ে দাম কমেছে আমদানিকৃত মোটা মসুর ডাল, সাদা চিনি, দেশি-বিদেশি রসুন, শুকনো মরিচ, ফার্মের ডিম ও বয়লার মুরগি। স্থিতিশীল রয়েছে খোলা সয়াবিন তেল, দেশি উন্নত মসুর ডাল ও গরুর মাংসের দাম। এছাড়াও দাম বেড়েছে দেশি পিঁয়াজ, ৫ লিটার বোতলের সয়াবিন তেল, দেশি মুরগী ও খাসির মাংস। খুলনা কৃষি বিপণন অধিদপ্তর ও সরেজমিনে বাজার ঘুরে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফারাজিপাড়ার বাসিন্দা সোনা মিয়া। তিনি গত রমজানে খেজুর কিনেছেন ৪’শ টাকা কেজি। সেই খেজুর এবার তাকে ৭’শ টাকায় কিনতে হয়েছে। সরকারি সিটি কলেজের সাবেক অধ্যাপক মোস্তফা জামান গত রমজানে শসা কিনেছেন ৫০/৬০ টাকা কেজি। এবার শুরুর দিকে ১২০ টাকায় কিনেছেন। বর্তমানে ৯০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে শসা কিনছেন বলে জানান। এ্যাড. সোবাহান গত রমজানে লেবুর হালি কিনেছেন ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। এবার রোজার শুরুতে লেবুর হালি ১শ’ টাকা হলেও এখন ৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। তবে চাইনা জাতের লেবু এক হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুনের দামও বেশ চড়া বলে তিনি জানান। গত রমজানের তুলনায় পেঁয়াজের দাম বেশি হলেও আলু ও রসুনের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি জানান।

গতকাল মঙ্গলবার ময়লাপোতা মোড়ের সন্ধ্যাবাজার ও নিরালা মোড়ে কাঁচাবাজারে গিয়ে দেখা যায়, লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা হালি, শসা ও খিরাই ১’শ টাকা কেজি। ব্যবসায়ীদের দাবি লেবু বা শসার মৌসুম না হওয়ায় রোজার শুরুতে বাজার অস্থির ছিল। কিন্তু পর্যায়ক্রমে সব জিনিসের দাম কমে আসছে। বর্তমানে অধিকাংশ পণ্য ক্রেতাদের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।

এদিকে খুলনা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের বাজার দরে গত রবিবারের খুচরা বাজার দর পর্যালোচনায় দেখা যায়, আমদানিকৃত মোটা মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ টাকা কেজি। গত রমজানে যা বিক্রি হয়েছে ১০৫ থেকে ১১০ টাকা কেজি। সাদা চিনি বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে ১০৫ টাকা কেজি, গত রমজানে বিক্রি হয়েছে ১২০ টাকা থেকে ১২৫ টাকা কেজি। দেশি রসুন বিক্রি হচ্ছে ১শ’ থেকে ১২০ টাকা, বিদেশি রসুন (চায়না) বিক্রি হচ্ছে ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি। গত রমজানে দেশি রসুন বিক্রি হয়েছে ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা, বিদেশি রসুন (চায়না) বিক্রি হয়েছে ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা কেজি। দেশি-বিদেশি শুকনো মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৩ থেকে ৪শ’ টাকা কেজি। গত রমজানে বিক্রি হয়েছে ৪শ’ থেকে ৫শ’ টাকা কেজি। ৫ লিটারের বোতল সয়াবিন তেল বিক্রি হচ্ছে ৯৪০ থেকে ৯৫০ টাকা। গত রমজানে বিক্রি হয়েছে ৯০০ থেকে ৯১০ টাকা। দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা কেজি। গত রমজানে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা কেজি। দেশি মুরগী বিক্রি হচ্ছে ৫৪০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি। গত রমজানে বিক্রি হয়েছে ৫২০ থেকে ৫৪০ টাকা। খাসির মাংস বিক্রি হচ্ছে ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা কেজি। গত রমজানে বিক্রি হয়েছে ১০৫০ থেকে ১১০০ টাকা কেজি। ওই তালিকায় দেওয়া ৩১ প্রকারের নিত্যপণ্যের মধ্যে ২৪ প্রকার স্থিতিশীল রয়েছে।

খুলনা কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘চলতি রমজানে কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। তবে অধিকাংশ পণ্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে রয়েছে।’ বাজার নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন দপ্তর কাজ করছে দাবি করে বলেন, ‘খেজুরের দাম বৃদ্ধি রোধে কাজ করছে অধিদপ্তর। তবে অধিকাংশ ক্রেতার অভিযোগ খেজুর আমদানি নির্ভর। ক্রেতাদের সুবিধার্থে খেজুরের ওপর করারোপ মাপ করার পরও মাত্রাতিরিক্ত দাম বেড়েছে। এটা ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট।’

হেলাতলা রোড, ডাকবাংলা ও সোনাডাঙ্গার খেজুর ব্যবসায়ীরা জানান, প্রকার ভেদে খেজুরের দাম ভিন্ন। যে কারণে অনেকে অভিযোগ করছেন। তবে বর্তমানে বাজার স্বাভাবিক রয়েছে বলে তারা জানান।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন