বুধবার । ২৫শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ১২ই ফাল্গুন, ১৪৩২

বিদেশি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ চুক্তি সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি : বিদ্যুৎমন্ত্রী

গেজেট প্রতিবেদন

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ভারতসহ বিদেশি ও বেসরকারি খাতের সঙ্গে করা বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিগুলোকে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ।

তিনি বলেন, বিদ্যুৎ খাতের সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিবিড়ভাবে জড়িত। অথচ আগের সরকার এই বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে একের পর এক দেশবিরোধী চুক্তি করেছে।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় এসব কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় তিনি দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট, এলএনজি আমদানি এবং বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পরিশোধসহ বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘বিদ্যুৎ চুক্তির সঙ্গে দেশের সার্বভৌমত্ব সরাসরি সম্পর্কিত। অনেক ক্ষেত্রে এসব চুক্তিতে সার্বভৌমত্বকে কার্যত গ্যারান্টি হিসেবে রাখতে হয়। এমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আগের সরকার প্রয়োজনীয় সতর্কতা দেখায়নি।’ তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় করা বিদ্যুৎ খাতের অধিকাংশ চুক্তিই জাতীয় স্বার্থবিরোধী।

মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি সরকারের নীতি ছিলো বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নিজস্ব সক্ষমতা বৃদ্ধি করা। অথচ দেশে পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বেসরকারি খাত এবং বিদেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, যা দেশের সার্বভৌমত্বের পরিপন্থি।’

আদানি চুক্তিসহ বিগত সরকারের সময় করা সব বিদ্যুৎ চুক্তি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকার সবেমাত্র দায়িত্ব নিয়েছে। দেশের জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েই প্রতিটি চুক্তি খতিয়ে দেখা হবে। যেসব চুক্তি দেশবিরোধী বলে প্রতীয়মান হবে, সেগুলোর বিষয়ে করণীয় নির্ধারণ করা হবে।’

বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বকেয়া পরিশোধ নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার মাত্র সাত দিন হলো দায়িত্ব নিয়েছে।’ বকেয়া এক দিনে তৈরি হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আগের সরকার এই সময়ে কী করেছে, সেটাও বিবেচনায় নিতে হবে। নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি পর্যালোচনা করছে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতাকে কিছু নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। এসব বিষয় পুনর্মূল্যায়ন করে একটি সমাধানের পথে এগোতে হবে। এ জন্য একটি কমিটি ইতোমধ্যে কাজ করে প্রতিবেদন দিয়েছে।’

আইনি জটিলতা প্রসঙ্গে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে যেতে আগ্রহী। তবে কেউ যদি আদালতের আশ্রয় নেয়, তাহলে সরকারকেও সেই আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।’

নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দেয়ার কথা পুনর্ব্যক্ত করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘জনগণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে গুণগত মানসম্পন্ন জ্বালানি ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।’

খুলনা গেজেট/এমএনএস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন