আজ ২ রমজান। রহমত দশকের দ্বিতীয় দিন। বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশন এবং কেন্দ্রীয় ইমাম পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গতকাল প্রায় প্রত্যেকটি মসজিদে তারাবির নামাজে দেড় পারা করে কুরআন শরীফ পড়া হয়। আগামী চারদিনও এভাবে দেড় পারা করে পড়া হবে।
মহানবী হজরত মুহাম্মাদ (সঃ) কে ফেরেশতা জীব্রাইল (আঃ) রমজান মাসে সম্পূর্ণ কুরআন তেলওয়াত করে শোনাতেন এবং নিজেও আল্লাহর রসুলের কাছ থেকে তা শুনতেন। এই কারণে সুন্নত হিসেবে সারা বিশ্বের মুসলিমগণ সম্পূর্ণ তারাবিতে গোটা কুরআন খতম করে থাকেন। তাছাড়া রমজান মাসের বিশেষত্ব ও ফজিলতের প্রধান কারণ হলো এই মাসেই মহা গ্রন্থ আল কুরআন নাজিল হয়।
আল্লাহ তায়ালার ঘোষণা, রমজান মাসই হল সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যা মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য স্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী (বাকারা : ১৮৫)। শুধু তাই নয়, অন্যান্য বড় বড় আসমানি কিতাবও এই মাসেই নাজিল হয়। হজরত ইব্রাহিম (আঃ) এর সহীফাসমূহ এই মাসের ১ অথবা ৩ তারিখে নাজিল হয়। হজরত দাউদ (আঃ) কে ১২ অথবা ১৮ রমজান যাবুর কিতাব দেওয়া হয়। হজরত মুসা (আঃ) কে ৬ রমজান তাওরাত কিতাব দেওয়া হয়। হজরত ঈসা (আঃ) কে ১২ অথবা ১৩ রমজান ইনজিল কিতাব দেওয়া হয়। এতে বোঝা যায় যে, আল্লাহপাকের কিতাবের সাথে এই মাসের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। এই কারণেই এই মাসে বেশী বেশী কুরআন তেলওয়াত করা দরকার। কুরআন হলো একটি জীবন্ত মো’জেজা। এটিই পৃথিবীর একমাত্র ধর্মগ্রন্থ যা এখনও অবিকল অবশ্যই আছে এবং কেয়ামত পর্যন্ত থাকবে। এর তেলাওয়াত মাধ্যমে আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে আল্লাহর নির্দেশনা সম্পর্কে জানা যায়। হাদিসে এসেছে, তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম যে নিজে কুরআন শরীফ শিখে এবং অপরকে শিক্ষা দেয় (বুখারি, আবু দাউদ, তিরমিজী)।
অন্য এক হাদিসে হুজুর (সাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি কোরানের একটি অক্ষর পড়বে সে এক নেকি লাভ করবে এক নেকি দশ নেকীর সমান হবে। আমি বলি না যে ‘আলিফ-লাম-মীম’ একটি অক্ষর বরং আলিফ একটি অক্ষর, লাম একটি অক্ষর এবং মীম একটি অক্ষর (তিরমিজী)।
এই সওয়াব রমজান ছাড়া অন্যান্য মাসের জন্য প্রযোজ্য। রমজান মাসে এই সওয়াব কমছে কম আরও ৭০ গুণ বৃদ্ধি করা হয়।
অপর হাদিসে রাসুলে কারীম (সাঃ) বলেন, “তোমরা আল্লাহর নৈকট্য ঐ জিনিস হতে অধিক আর কোনো জিনিস দ্বারা হাসিল করতে পারবে না, যা স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা হতে বের হয়েছে, অর্থাৎ কালামে পাক (আবু দাউদ, তিরমিজী)।”
আমাদের প্রিয়নবি মুহাম্মদ (সঃ)-এর গোটা জীবনটাই ছিল কুরআনের কার্বন কপি। তাই আসুন, আমরা এই মহিমান্বিত মাসে বেশী বেশী কুরআন তেলওয়াত করি, কুরআনের অর্থ বুঝি।
খুলনা গেজেট/এনএম

