ইসলামে সামর্থ্যবানদের জন্য কোরবানি আদায় করা ওয়াজিব। সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি এই ইবাদত পালন করে না, তার ব্যাপারে হাদিস শরিফে বলা হয়েছে, ‘যার কোরবানির সামর্থ্য রয়েছে কিন্তু কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহে না আসে।’ (মুস্তাদরাকে হাকেম: ৩৫১৯, আত্তারগীব ওয়াত্তারহীব : ২/১৫৫)
ইবাদতের মূলকথা হলো মহান আল্লাহ তায়ালার আনুগত্য এবং তার সন্তুষ্টি অর্জন। তাই যেকোনো ইবাদতের পূর্ণতার জন্য দুটি বিষয় জরুরি। ইখলাস তথা একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে পালন করা এবং শরিয়তের নির্দেশনা মোতাবেক মাসায়েল অনুযায়ী সম্পাদন করা। কোরবানির জন্য সুস্থ-সবল পশু নির্ধারণ জরুরি। যদি কোনো পশুর দুধের দাঁত না পড়ে এবং নতুন দাঁত না উঠে তাহলে সেই পশু কোরবানি করা যাবে কিনা?
এমন প্রশ্নে ইসলামী আইন ও ফেকাহশাস্ত্রবিদেরা বলেন-
কোরবানি শুদ্ধ হওয়ার জন্য পশুর নির্দিষ্ট বয়সসীমা পার হওয়া জরুরি। দাঁত পড়া বা ওঠা জরুরি নয়।
জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত রসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, তোমরা মুসিন্না তথা উপযুক্ত বয়সে উপনীত পশু ছাড়া কোরবানি করবে না। (সহিহ মুসলিম: ১৯৬৩)
গরুর ক্ষেত্রে ‘মুসিন্না’ হচ্ছে, যে গরুর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে। ভেড়া ও ছাগলের ক্ষেত্রে ‘মুসিন্না’ হচ্ছে, যে ছাগলের এক বছর পূর্ণ হয়েছে। গরুর দুই বছর পূর্ণ হলে এবং ভেড়া-ছাগলের এক বছর পূর্ণ হলে ওই গরু, ভেড়া, ছাগল দিয়ে কোরবানি করা যাবে দুধ দাঁত না পড়ে বা নতুন দাঁত না উঠলেও।
যেহেতু সাধারণ অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ভেড়া-ছাগলের এক বছর পূর্ণ হলে সাধারণত তার দুধের দাঁত পড়ে যায়, গরুর দুই বছর পূর্ণ হলে দুধের দাঁত পড়ে যায়, তাই দাঁত পড়া বা নতুন দাঁত ওঠা দেখে মানুষ কোরবানির পশুর উপযুক্ত বয়স হয়েছে কি না তা বোঝার চেষ্টা করে। শরিয়তের দৃষ্টিতেও এভাবে বয়স অনুমান করা যেতে পারে, এতে কোনো সমস্যা নেই।
তবে যদি কোনো গরুর ব্যাপারে নিশ্চিতভাবে জানা যায় সেটির দুই বছর পূর্ণ হয়েছে, ছাগলের ব্যাপারে যদি নিশ্চিতভাবে জানা যায় সেটির এক বছর পূর্ণ হয়েছে, তাহলে দুধ দাঁত না পড়লে বা নতুন দাঁত না উঠলেও ওই গরু-ছাগল দিয়ে কোরবানি শুদ্ধ হবে।
খুলনা গেজেট/এএজে

