ফ্রান্স সরকার সোমবার অভিযোগ করেছে, গত সপ্তাহে এক অতি-ডানপন্থী কর্মীর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চরম বামপন্থীরা আংশিকভাবে দায়ী।
২৩ বছর বয়সী কোয়েন্টিন দেরাঁক বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) লিয়ঁ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বামপন্থী রাজনীতিকের বক্তব্যের বিরোধিতায় আয়োজিত অতি-ডানপন্থী বিক্ষোভের পার্শ্ববর্তী এলাকায় হামলার শিকার হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি পরে মারা যান।
এ ঘটনা মার্চে অনুষ্ঠেয় পৌর নির্বাচন এবং ২০২৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ফ্রান্সের অতি-ডান ও চরম বামপন্থীদের মধ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়ে তুলেছে।
তদন্ত এখনো চলমান থাকলেও সরকার ইতোমধ্যে চরম বামপন্থী দল লা ফ্রাঁস আনবোমিজ (এলএফআই)-এর বক্তব্যকে সহিংসতার জন্য দায়ী করেছে, যা দেরাঁকের মৃত্যুর দিকে নিয়ে যায় বলে তারা মনে করছে।
অতি-ডানপন্থীরা হত্যাকাণ্ডের জন্য লা জ্যুন গার্দ (ইয়াং গার্ড) নামের একটি অ্যান্টি-ফ্যাসিস্ট যুবগোষ্ঠীকে দায়ী করেছে, যা সংসদে নির্বাচিত হওয়ার আগে এলএফআইয়ের এক আইনপ্রণেতার সহ-প্রতিষ্ঠিত সংগঠন।
গত জুনে বিলুপ্ত হওয়া সংগঠনটি ‘দুঃখজনক ঘটনাগুলোর’ সঙ্গে কোনো সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করেছে।
লিয়ঁর প্রসিকিউটর সোমবার বিকেলে তদন্তের ফলাফল প্রকাশ করার কথা রয়েছে।
সরকারের মুখপাত্র মোদ ব্রেজোঁ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) এলএফআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, তারা ‘বছরের পর বছর সহিংসতার পরিবেশ উৎসাহিত করেছে।’
তিনি টেলিভিশন চ্যানেল বিএফএমটিভিকে বলেন, ‘রাজনৈতিক পরিবেশ ও সহিংসতার আবহ বিবেচনায় বৃহস্পতিবারের হামলার জন্য এলএফআইয়ের নৈতিক দায় রয়েছে।’
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের মধ্য-বামপন্থী সদস্য রাফায়েল গ্লুকসমানও চরম বামপন্থী দলটির সমালোচনা করেন।
তিনি আরটিএল সম্প্রচারমাধ্যমকে বলেন, ‘বামপন্থীদের পক্ষে এলএফআইয়ের সঙ্গে সম্ভাব্য নির্বাচনী জোট নিয়ে সামান্যতম সন্দেহ পোষণ করাও অকল্পনীয়।
২০২৪ সালে প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ আকস্মিক সংসদীয় নির্বাচন আহ্বান করলে অতি-ডানপন্থীদের বিরুদ্ধে বামপন্থী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হয়।
তবে ম্যাখোঁ তার সংখ্যাগরিষ্ঠতা আরো হারান এবং অভিবাসনবিরোধী ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বড় দলে পরিণত হয়।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

