অনেক অসুস্থ। ঠিকমতো হাঁটতেও পারেন না। লাঠিতে ভর দিয়ে ধীরে ধীরে চলেন। তবুও থেমে থাকেননি ৭৮ বছর বয়সী ছামেলা বেগম। গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগে তিনি হাজির হয়েছেন ভোটকেন্দ্রে।
বৃহস্পতিবার সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে নড়াইলের আউড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আসেন সীমাখালির বাসিন্দা ছামেলা বেগম। ভোট দেওয়া শেষে ক্লান্ত শরীরে কিছুটা বিশ্রাম নিতে নিতে তিনি বলেন, “অনেক বয়স হয়েছে। লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারি না। তবুও ভোট দিতে হবে-এই চিন্তা করেই আস্তে আস্তে হেঁটে কেন্দ্রে এসে ভোট দিয়ে গেলাম। ভোট দিয়ে অনেক খুশি লাগছে।”
তিনি আরও বলেন, লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে কষ্ট হয়েছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে হাত-পা ব্যথা হয়ে গেছে। এখন একটু বসে আছি, তারপর বাড়ি চলে যাবো।
সকালের শুরু থেকেই ওই কেন্দ্রে নারী-পুরুষ ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। অনেকেই সকাল সাড়ে ৭টা থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
একই কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা ৬০ বছর বয়সী ফয়সাল খান বলেন, “আগে ভোট দেওয়ার আগেই ভোট হয়ে যেত। এবার নিজের ভোট নিজে দিয়েছি। সত্যি বলতে কেমন যেন লাগছে-মনে হচ্ছে জীবনে প্রথমবার ভোট দিলাম।”
নড়াইল-১ আসনটি কালিয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন, কালিয়া পৌরসভা এবং নড়াইল সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯৪ হাজার ৪৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫৮৭ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। এ আসনে ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
অন্যদিকে নড়াইল-২ আসনটি লোহাগড়া উপজেলা ও নড়াইল সদর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত। এখানে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯০ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১ লাখ ৯৪ হাজার ১৪৪ জন, নারী ১ লাখ ৯৬ হাজার ৬৪৫ জন এবং হিজড়া ৪ জন। এ আসনেও ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
জেলা নির্বাচন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, জেলার দুইটি সংসদীয় আসনে মোট ২৫৮টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে অতি গুরুত্বপূর্ণ (ঝুঁকিপূর্ণ) ৪২টি, গুরুত্বপূর্ণ ১৪৫টি এবং সাধারণ ৭১টি কেন্দ্র চিহ্নিত করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, “ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ও নিরাপদে ভোট দিতে পারেন, সে ব্যাপারে প্রশাসন সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে রয়েছে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা বাহিনী।”
খুলনা গেজেট/এনএম

