অবশেষে দীর্ঘ টানাপোড়েন ও অনিশ্চয়তার অবসান ঘটল। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ এর বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে তৈরি হওয়া জটিলতার অবসান ঘটিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে খেলতে সম্মতি দিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তান সরকারের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মহল, একই সঙ্গে বড় আর্থিক ও কূটনৈতিক সংকট থেকে রক্ষা পেয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
গ্রুপ ‘এ’-এর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটি আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ম্যাচটি আদৌ হবে কি না তা নিয়ে গত এক সপ্তাহ ধরে চলছিল চরম অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সরকারের ‘ইউ-টার্নে’ সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো।
গতকাল সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে পাকিস্তান সরকারের একটি অফিশিয়াল এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে দেয়া বিবৃতিতে জানানো হয়, বন্ধুদেশগুলোর অনুরোধ ও ক্রিকেটের মর্যাদা রক্ষার স্বার্থে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচে অংশ নেবে পাকিস্তান দল। এই ঘোষণার মধ্য দিয়েই কার্যত সব জল্পনার অবসান ঘটে।
এর আগে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। ভারতের মাটিতে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোয় বাংলাদেশকে টুর্নামেন্ট থেকে বাদ ওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে এই সিদ্ধান্ত নেয় তারা। এতে পুরো টুর্নামেন্টই বড় ধরনের সংকটে পড়ে।
এদিকে পাকিস্তানের এই সিদ্ধান্তের পরপরই প্রতিক্রিয়া জানায় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআই। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বিসিসিআইয়ের সহসভাপতি রাজীব শুক্লা পুরো পরিস্থিতিকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন বলে জানান।
আইসিসি, পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই তিন পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে যে সমাধানে পৌঁছানো গেছে, তাকে স্বাগত জানান শুক্লা।
তিনি বলেন, আমি খুবই আনন্দিত যে আইসিসি উদ্যোগ নিয়ে লাহোরে বিসিবি ও পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে একটি চমৎকার সমাধান বের করেছে। এটি একটি বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধান, যেখানে ক্রিকেটকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
জানা গেছে, সংকট নিরসনে বড় ভূমিকা রেখেছেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান রববার। তিনি নিজে লাহোরে গিয়ে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি এবং বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম এর সঙ্গে বৈঠক করেন। দীর্ঘ আলোচনার পর তিন পক্ষই একটি সমঝোতায় পৌঁছায়।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে রাজীব শুক্লা বলেন, পুরো কৃতিত্ব আইসিসির। তারা সবাইকে আলোচনার টেবিলে এনে বিষয়টির সুরাহা করেছে। ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে খেলা হবে আমাদের সবার জন্য এটিই সবচেয়ে বড় সুসংবাদ।
সংবাদ সম্মেলনের পর রাজীব শুক্লা নিজের ফেসবুক ও এক্স অ্যাকাউন্টে তার বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে তিনি আবারও আইসিসির ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং ক্রিকেটকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।
এদিকে সব জটিলতার অবসান হওয়ায় এখন ক্রিকেট বিশ্বের নজর ১৫ ফেব্রুয়ারির দিকে। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই বাড়তি উত্তেজনা, দর্শক আগ্রহ এবং বিপুল বাণিজ্যিক গুরুত্ব। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি নিশ্চিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে আয়োজক, সম্প্রচারকারী সংস্থা এবং কোটি কোটি ক্রিকেটভক্তের মধ্যে।
খুলনা গেজেট/এএজে

