শুক্রবার । ২০শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ৭ই ফাল্গুন, ১৪৩২

পিসিবির কাছে ভারত ম্যাচ বয়কট ইস্যুতে ব্যাখ্যা চাইল আইসিসি

ক্রীড়া প্রতিবেদক

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচ বয়কটের ঘোষণা দেয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) কাছে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা চেয়েছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা ম্যাচটি না খেলার যৌক্তিকতা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে পিসিবিকে চিঠি পাঠিয়েছে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ইএসপিএন ক্রিকইনফো জানিয়েছে, পিসিবি ইতোমধ্যে ইমেইলের মাধ্যমে আইসিসিকে তাদের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। সেখানে পাকিস্তান বোর্ড স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে, সরকারের সরাসরি নির্দেশনার কারণেই তারা ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে অংশ নিতে পারছে না। বিষয়টিকে পুরোপুরি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে পিসিবি।

তবে আইসিসি এখনো আশা ছাড়েনি। পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ খেলাতে রাজি করাতে পর্দার আড়ালে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি। একই সঙ্গে ক্রিকইনফো জানিয়েছে, ম্যাচ বয়কটের কারণে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থায় যাওয়ার সুযোগ বাস্তবে খুব সীমিত।

আইসিসির টুর্নামেন্ট অংশগ্রহণসংক্রান্ত চুক্তিতে ‘ফোর্স ম্যাজিউর’ বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যুদ্ধ কিংবা সরকারের হঠাৎ জারি করা নির্দেশনার কারণে যদি কোনো বোর্ড চুক্তিগত দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়, সে ক্ষেত্রে তাকে আইনগতভাবে দায়ী করা হয় না। এই ধারার আওতায় সরকারি নির্দেশনাকে বৈধ কারণ হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।

এর আগে পিসিবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিবৃতিতে ভারতের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দেয়। পরে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ মন্ত্রিসভার বৈঠকেও একই অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বিষয়টিকে বাংলাদেশের প্রতি সংহতির সঙ্গে যুক্ত করেন। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ আগেই ভারতে খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিরপেক্ষ ভেন্যুতে সরিয়ে নেয়ার অনুরোধ জানালেও আইসিসি সেই দাবি নাকচ করে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করে।

আইসিসির মেম্বারস পার্টিসিপেশন অ্যাগ্রিমেন্টের (এমপিএ) ১২ নম্বর ধারা অনুযায়ী, কোনো বোর্ড ফোর্স ম্যাজিউর দাবি করতে চাইলে চারটি শর্ত পূরণ করতে হয়। প্রথমত, ঘটনাটি বোর্ডের নিয়ন্ত্রণের বাইরে হতে হবে। দ্বিতীয়ত, সেটি সরাসরি চুক্তিগত দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে হবে। তৃতীয়ত, বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিপত্রসহ আইসিসিকে জানাতে হবে। এবং চতুর্থত, ঘটনার প্রভাব কমাতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে যথাসাধ্য চেষ্টা চালাতে হবে।

এই প্রেক্ষাপটে এখন মূল প্রশ্ন হলো পিসিবি আইসিসির কাছে কী ধরনের যুক্তি ও নথি তুলে ধরে। আইসিসি ইতোমধ্যে পিসিবিকে জানিয়েছে, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেললে টুর্নামেন্ট থেকে যে আর্থিক ক্ষতি হতে পারে, তার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করার অধিকার সংস্থাটির রয়েছে। তবে একই সঙ্গে আইসিসি এটাও স্পষ্ট করেছে, তারা এই ইস্যুতে সরাসরি সংঘাতে যেতে আগ্রহী নয়।

তবুও আইসিসি তাদের সংবিধানের কথাও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে। কোনো সদস্য বোর্ড যদি চুক্তিগত দায়িত্বে গুরুতর লঙ্ঘন করে, সে ক্ষেত্রে সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করার মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ সংস্থার হাতে আছে।

অন্যদিকে, পিসিবিও নিজেদের অবস্থান নিয়ে প্রস্তুত। বিষয়টি আনুষ্ঠানিক বিরোধে গড়ালে তারা পাল্টা যুক্তি তুলে ধরবে বলে জানিয়েছে বোর্ড সংশ্লিষ্ট সূত্র। এ ক্ষেত্রে পিসিবি ২০১৪ সালে বিসিসিআইয়ের সঙ্গে হওয়া একটি দ্বিপক্ষীয় সমঝোতা চুক্তির উদাহরণ সামনে আনতে পারে। ওই চুক্তি অনুযায়ী ২০১৫ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে ছয়টি সিরিজ খেলার কথা থাকলেও ভারতীয় বোর্ড তা বাস্তবায়ন করেনি। বিষয়টি পরে আইসিসির ডিসপিউট রেজল্যুশন কমিটি পর্যন্ত গড়ায়।

সেই মামলায় শেষ পর্যন্ত পিসিবি ক্ষতিপূরণ না পেলেও, ভারত সরকারের অনুমতি না দেয়ার বিষয়টি যুক্তি হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই রায়কে নিজেদের পক্ষে দৃষ্টান্ত হিসেবে ব্যবহার করতে পারে পাকিস্তান।

পিসিবি চেয়ারম্যান যখন থেকেই পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়েই সংশয় প্রকাশ করেছেন, তখন থেকেই আইসিসি ও পিসিবির মধ্যে নীরব আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া এই সংকট শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব ক্রিকেট।

খুলনা গজেটে / এম এন এস




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন