বৃহস্পতিবার । ৫ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ । ২২শে মাঘ, ১৪৩২

হস্তশিল্পে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন সাবরিনার

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি

নান্দনিক নকশা ও পরিবেশবান্ধব পণ্য তৈরি করে দেশ-বিদেশে সাড়া জাগিয়েছেন সাবরিনা ইয়াসমিন রাকা। তার হাতের তৈরি পণ্য এখন দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে শোভা পাচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে নকশি কাঁথা, মাদুর, ব্যাগ, টুপি, বাসকেট, টেবিল ম্যাট, জুতা, কলমদানি, বাবুই পাখির বাসা, বিড়ালের বাসা, গহনা, শো-পিচ, সুপারি গাছের খোলার প্লেটসহ বিভিন্ন ধরনের শৌখিন সামগ্রী। লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির অবিচল ব্রত নিয়ে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখছেন ওই নারী উদ্যোক্তা। বর্তমান তার কারখানায় হস্তশিল্প তৈরি করে গ্রামের অনেক নারী এখন জীবিকা নির্বাহ করছেন।

সরেজমিন ঘুরে জানা যায়, ছোট বেলায় অনেক দুরন্তপনা ছিলো সাবরিনার। খেলার মধ্যে তার ফুটবলের প্রতি আগ্রহ ছিলো বেশি। দৌড়, লাফ, সাঁতার প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে নাচ-গানেও ছিলো বেশ পটু। সাবরিনা ইয়াসমিন ডুমুরিয়া উপজেলার সাহস ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের দরিদ্র পিতা আলতাফ হাওলাদারের মেয়ে। ইউটিউব দেখে সাবরিনা ২০১৬ সালে ‘নকশিকাঁথা’ তৈরির কাজ শুরু করে। ছোট বেলা থেকেই তার মধ্যে সৃজনশীল মানসিকতা ছিলো। সে নিপুনতাকে কাজে লাগিয়ে এপর্যন্ত সাড়ে ৫ হাজার রকমের বাহারি ডিজাইনের কারুপণ্য তৈরি করেছে। এরমধ্যে উল্লেখযোগ্য পাটের মাদুর, বাস্কেট, টেবিল ম্যাট, কলমদানি, জুতা, বাবুই পাখির বাসা ও বিড়ালের বাসা। এছাড়া নান্দনিক নকশার শাড়ির ডিজাইনসহ তাল পাতা, কচুরিপানা, কাশফুল, নারকেল মালা, খেজুর ও সুপারি পাতার বিভিন্ন পণ্য দেশ-বিদেশের মানুষের দৃষ্টি কাড়ছে। সে বিভিন্ন এলাকার ১১ হাজার নারীকে হস্তশিল্পের উপর প্রশিক্ষণ দিয়েছে। এছাড়া সাবরিনার কারখানায় হস্তশিল্প তৈরি করে গ্রামের অনেক নারী জীবিকা নির্বাহ করছেন।

কারুশিল্পী সাবরিনার নিপুণ হাতের অনবদ্য সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম হলো ‘নকশি কাঁথা’। যে কাঁথা আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। আদিকাল থেকে আজ অবধি এর চাহিদা একটুও কমেনি। সাবরিনা ইয়াসমিন খুলনা সিটি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে ২০২৫ সালে ডিপ্লোমা ইন ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেছে। পড়া-লেখার পাশাপাশি সে হস্তজাত পণ্য তৈরির কাজ করে আসছে। ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ বেগম রোকেয়া দিবসে ‘সমাজে অসামান্য অবদান রাখায়’ সাবরিনা ইয়াসমিনকে উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ নারীর সংবর্ধনা দেয় উপজেলা প্রশাসন। হস্তশিল্পের উপর সে যশোর ও খুলনা জেলার বিভিন্ন মেলায় স্টল সেরা প্রদর্শনী হিসেবে ডজন খানেক পুরস্কার পেয়েছে।

কারুশিল্পী সাবরিনা ইয়াসমিন খুলনা গেজেট প্রতিবেদককে জানান, ‘এক্সপোর্ট সেবা প্রক্রিয়ায় ২০১৯ সালে সরাসরি ক্রেতাদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে ৫ লাখ টাকায় পাটের কিছু পণ্য মালয়েশিয়াতে রপ্তানি করা হয়। পর্যায়ক্রমে অরও কয়েকটি দেশে রপ্তানি হয়। আন্তর্জাতিক উদ্যোক্তা হওয়া এবং লাখো মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই ছিলো তার চ্যালেঞ্জ। হস্তশিল্প তৈরি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মধ্যদিয়ে তিনি নিজেকে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। তার তৈরি করা পণ্য মালেশিয়া, দুবাই, মিশর, কোরিয়ার পর এবার ইউরোপের মার্কেটে রপ্তানির প্রক্রিয়া চলছে।

তিনি বলেন, “বিদেশে কলা গাছের তৈরি অর্গানিক অয়েল, লেদার, জুতা ও ফেব্রিকস’র খুব চাহিদা রয়েছে। এটা নিয়েও কাজ চলছে। তবে ব্যাবসা আরও বৃদ্ধি করতে হলে ভালো মানের একটি কারখানা করা খুবই জরুরি। ইতোমধ্যে জার্মানের একটি প্রতিনিধি দল তাদের বাড়ি ও কারখানা পরিদর্শন করে গেছেন। অর্থের অভাবে ভালো মানের কারখানা করতে পারেনি। সরকারি সহায়তা পেলে এ শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন