আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেয়ার ঘটনায় চলমান বিতর্কের মধ্যে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ড (এসএলসি)। এসএলসির সচিব বান্দুলা দিসানায়েকে জানিয়েছেন, ভারত-পাকিস্তান-বাংলাদেশকে ঘিরে এই টানাপোড়েনে কলম্বো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকবে।
ভারতের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা ও ধর্মীয় গোষ্ঠীর দাবির মুখে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ায় শুরু হয় সঙ্কট। বাংলাদেশের পেসারকে বাদ দেয়ার কারণ নিয়ে এখনও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় বাংলাদেশ।
পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চারটি ম্যাচের তিন হওয়ার কথা ছিল কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ও একটি মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে। কিন্তু বিশ্বকাপের মাসখানেক আগে মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে সরিয়ে দেয়ার ঘটনায় উদ্বেগ বাড়িয়ে তোলে।
এরপর নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে গত ৪ জানুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ ভারত থেকে শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নিতে আইসিসির কাছে অনুরোধ জানায় বিসিবি। কিন্তু ২১ জানুয়ারি বোর্ডসভার পর ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়ে দেয়া হয়, ভেন্যু পরিবর্তন সম্ভব নয়, খেললে ভারতেই খেলতে হবে।
তবে বাংলাদেশ সাফ জানিয়ে দেয়, অবস্থান বদলাবে না, ভারতে গিয়ে ক্রিকেট দল কোনো ম্যাচ খেলবে না। পরে লিটন দাসের দলের জায়গায় আইসিসির সহযোগী স্কটল্যান্ডকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার আমন্ত্রণ জানায় আইসিসি। বাছাইপর্ব উতরাতে না পারা দলটি ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে।
এরপর থেকেই গুঞ্জন ছড়ায় বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে পাকিস্তান হয়তো পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করতে পারে অথবা অন্তত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার পথ বেছে নিতে পারে। যদিও এই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসেনি। এই পুরো পরিস্থিতি শ্রীলঙ্কা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া বিশ্বকাপের আগে এ বিষয়ে মুখ খুলেছেন দিসানায়েকে। তিনি বলেন, ‘ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যকার এই বিরোধে আমরা নিরপেক্ষ অবস্থানেই থাকছি। এই তিনটি দেশই আমাদের বন্ধুপ্রতিম।’
তিনি আরও জানান, প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতে এই তিন দেশের যেকোনোটির জন্য আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করতে শ্রীলঙ্কা সবসময় প্রস্তুত। আঞ্চলিক ক্রিকেটে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে, দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী সুনীল কুমারা গামাগে বলেন, ‘বিশ্বকাপ যেন সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্নভাবে অনুষ্ঠিত হয়, এটাই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।’ তিনি নিশ্চিত করেন, উচ্চঝুঁকির ম্যাচগুলোতে, বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ে বাড়তি গুরুত্ব দিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে, বাংলাদেশ ইস্যুতে উত্তাল ক্রিকেট রাজনীতির মাঝেও নিরপেক্ষতা আর স্থিতিশীলতার বার্তাই দিচ্ছে শ্রীলঙ্কা।
সূত্র- ক্রিকটেকার
খুলনা গেজেট/এনএম



