শুক্রবার । ৩০শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৬ই মাঘ, ১৪৩২

‘ভোট নিয়ে অন্য কোনো চিন্তা করলে সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না’

গেজেট প্রতিবেদন

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মনে রাখবেন যে মায়ের দামাল সন্তানেরা চব্বিশে জগদ্দল পাথর হিমালয়ের সমান ফ্যাসিবাদকে তাড়িয়েছে, সেই সন্তানেরা ঘুমিয়ে পড়ে নাই। তারা এখনো জেগে আছে। আগামীতে জনগণের ভোট নিয়ে কেউ যদি অন্য কোনো চিন্তা করেন এই যুবকরা সিংহ হয়ে গর্জন করবে। সিংহের থাবা সামাল দিতে পারবেন না। সুতরাং নিজের ছাড়া কারও ভোটের দিকে হাত বাড়াবেন না।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কুমিল্লার লাকসাম স্টেডিয়ামে জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান এসব কথা বলেন।

জামায়াতের আমির বলেন, এই স্লোগান অচল- ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’, না সেদিন এখন আর নাই। এখন আমারটা আমি দিব, তোমারটা তুমি দাও। আমার যারে পছন্দ আমি দেব, তোমার যারে পছন্দ তারে দাও। এর নাম হচ্ছে ডেমোক্রেসি। এর নাম হচ্ছে এসেন্টস অব ডেমোক্রেসি। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য।

তিনি বলেন, এই দেশটা সবার, শুধু আমার একার নয়। সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন জায়গায় যারা আছেন, আমরা বিশ্বাস করি দেশ আমাদের সবার। সবার দায় আছে। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই আমরা একটি সভ্য দেশ করতে পারবো ইনশাআল্লাহ। এই দেশকে এখনো সভ্য বলা যাবে না। যে দেশের পথে ঘাটে সর্বত্র চাঁদাবাজি হয় এটা কখনও সভ্য দেশ হতে পারে না।

শফিকুর রহমান বলেন, আমাদের অঙ্গীকার আমরা চাঁদাবাজদেরকে সাহায্য করব। আপনারা হয়তো বলবেন- আশ্চর্য আপনারা কি চাঁদাবাজদেরকে আরও চাঁদা দিয়ে সহযোগিতা করবেন! না, আমরা তাদেরকে আহ্বান করব তোমরাও আমাদের সন্তান, চাঁদাবাজি ছেড়ে দাও। তোমাদের যদি খাদ্যের অভাব হয় আল্লাহ আমাদেরকে যে রিজিক দিয়েছেন আমরা তা ভাগাভাগি করে খাব। তবুও হারামের দিকে হাত বাড়াইও না। চাঁদা নিয়ে মানুষকে কষ্ট দিও না। রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে শিল্পপতি সবার ঘুম হারাম এদের কারণে। মানুষের অভিশাপের পাত্র হয়ে গেছো। তওবা করে এখান থেকে বের হয়ে আসো তোমাদেরকে বুকে টেনে নেব। এরপর তোমাদেরকে আমরা শিক্ষিত প্রশিক্ষিত করে তোমাদের হাতেও কাজ তুলে দেব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, বেকার ভাতা দিয়ে যুবকদেরকে আমরা অসম্মান করতে চাই না। আমাদের যুবকরা যারা লড়াই করে জীবন দিতে জানে অধিকারের জন্য, তারা বেকার ভাতার জন্য লড়াই করেনি। তারা লড়াই করেছে তাদের মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার জন্য। আমরা তোমাদেরকে কথা দিচ্ছি তোমাদের হাতকে আমরা এই দেশ গড়ার কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলব ইনশাআল্লাহ। সেই দিন তোমাদের হাতে মর্যাদার কাজ আমরা তুলে দেব। তখন সবাই মাথা উঁচু করে বুক ফুলিয়ে বলবা- আমিই বাংলাদেশ। আমাকে এই বাংলাদেশ অনেক কিছুই দিয়েছে এখন আমার প্রিয় দেশকে আমি দিতে চাই। আমি বেকার ভাতা খেতে চাই না।

শফিকুর রহমান বলেন, এই দেশটা মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সকলের। আমরা মিলেমিশে এই দেশটাকে ফুলের বাগানের মত গড়ব ইনশাআল্লাহ। সকল ধর্মের মানুষ তার সকল প্রাপ্য অধিকার পাবে, অধিকারের জন্য তার লড়াই করার দরকার হবে না। আমরা সমাজে সুবিচার কায়েম করব। যোগ্যতা অনুযায়ী সবাই দেশ গড়ার কাজে অংশগ্রহণ করবে। সরকার দেখবে না তিনি কোন দলের কিংবা কোন ধর্মের। দেখবে তিনি যোগ্য কি না আর তার মাঝে দেশপ্রেম আছে কি না। এনাফ। এনাফ ইজ এনাফ। আর কিছু লাগবে না। তিনি কাজ পাবেন, সম্মানের সাথে জীবন যাপন করবেন।

কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ড. সৈয়দ একেএম সরোয়ার উদ্দীন সিদ্দীকির সভাপতিত্বে জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের প্রার্থী ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের, জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাছুম, মাওলানা আব্দুল হালিম, জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক, কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১১ দলীয় জোটের মনোনীত প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মুহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, ডাকসুর ভিপি আবু সাদিক কায়েম উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন