বৃহস্পতিবার । ২৯শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১৫ই মাঘ, ১৪৩২

ভাতা নয় কাজ চেয়েছে যুবসমাজ, কর্মসংস্থান করবে জামায়াত: জামায়াত আমির

গেজেট প্রতিবেদন

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, যুব সমাজ মিছিল করে কখনো ভাতা চায়নি, চেয়েছে কাজ, কর্মসংস্থান। ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের ভিত্তিতে ধর্ম-জেন্ডার নির্বিশেষে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার(২৮ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মিরপুরে মনিপুর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ঢাকা-১৫ আসনের মহিলা সমাবেশের আয়োজন করা হয়। সেখানে একথা বলেন তিনি।

ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম উপস্থাপনায় মহিলা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন, ঢাকা মহানগর উত্তরের নায়েবে আমির, মিরপুর-১৫ আসনের আসন পরিচালক আবদুর রহমান মুসা।

জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কাজের ব্যবস্থার উদ্যোগ না নিয়ে শুধু বেকার ভাতা দেয়াকে যুবসমাজের জন্য অপমানের শামিল মনে করে জামায়াতে ইসলামী। তারা কি কারো কাছে মিছিল করে বেকার ভাতা চেয়েছে? তারা কাজ চেয়েছে, তারা কর্মসংস্থান চেয়েছে। আমরা তাদের হাতে ইনশাল্লাহ কাজ এবং কর্ম তুলে দেবো। তাদেরকে সম্মানিত করবো, তারা সম্মানিত করবে জাতিকে এবং দেশকে।

তিনি বলেন, আগামী ১২ তারিখের বিজয় জামায়াতে ইসলামীর বিজয় না হয়ে হোক ১৮ কোটি মানুষের বিজয়। যদি ১৮ কোটি মানুষের বিজয় হয়, সেটা হবে জামায়াতে ইসলামের বিজয়। আমরা কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী, পরিবার বা দলের বিজয় চাচ্ছি না। আমরা চাচ্ছি সত্যিকার অর্থে মানবতার বিজয়, ১৮ কোটি মানুষের বিজয়।

জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় গেলে ইনসাফের বাংলাদেশ কায়েম হবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, পুরুষদের মতো নারীরাও কর্মক্ষেত্রে সমান অবদান রাখবেন। সম্মান এবং নিরাপত্তার সাথে আমরা তাদের কর্মের মূল্য নিশ্চিত করবো। তাদের জন্য চলাচলের জন্য বড় শহরগুলোতে আলাদা বাস সার্ভিস থাকবে। পিক আওয়ারে তাদের জন্য আলাদা গাড়ি থাকবে। পুরুষদের অসুবিধা নাই। মাইলের পর মাইল হাঁটবে। বাইক চালাবে, বাইসাইকেলে আসবে। পাবলিক ট্রান্সপোর্টে উঠবে। ঠেলাঠেলি করে সমস্যা নাই। কিন্তু আমার মায়ের সমস্যা আছে। সেই সম্মানটা আমরা নিশ্চিত করব ইনশাল্লাহ।

তিনি নারীবান্ধব দলীয় উদ্যোগের পরিকল্পনা তুলে ধরে বলেন, কর্মক্ষেত্রে মায়েদের জন্য বেবি কর্নার থাকবে, ব্রেস্টফিডিং কর্নার থাকবে, ডে কেয়ার থাকবে। এইসব ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা হবে।আমরা বলেছিলাম যে সমস্ত মায়েরা সন্তান পালন করেন তাদের জন্য আমরা পাঁচ ঘন্টা কর্মঘন্টা করতে চাই। কিছু লোক হই হই রই রই শুরু করে দিলো। আমাদের কথাগুলো না শুনেই চিৎকার, লাফালাফি শুরু করে দিল। আমরা কি বলেছি তারা বুঝারও চেষ্টা করে নাই। আমরা বলেছি বহু মা সন্তান লালন পালন করতে গিয়ে চাকরিটাই ছেড়ে দেন। সেই চাকরিতে যদি পাঁচ কর্মঘন্টা করা হয়, সন্তানের জন্য সেখানে যদি বেবি কেয়ার সিস্টেম করা হয়, তাহলে সেই মা তার প্রয়োজন পূরণের জন্য তার দক্ষতা কাজে লাগানোর জন্য সেখানে থেকে যাচ্ছেন। তাকে বিদায় নিতে হচ্ছে না। তিনি ঝরে পড়ছেন না। আমরা বলেছি এই যে গ্যাপ হবে এই গ্যাপের দায়িত্ব রাষ্ট্রকে নিতে হবে।

তিনি বলেন, মা-বোনরাই তো রাষ্ট্রের বুনিয়াদ। তাদেরকে বাদ দিয়ে তো কোন কিছু কল্পনাই করা যাবে না। যারা আপনার, আমার মতো সন্তানকে বড় করলেন, আমার কর্মঘন্ডাটা ওই সময় কঠিন সময়। আট ঘন্টা আপনার মতো আমার মতো করতে হবে। এটা কি অবিচার নয়? আমরা কথা দিয়েছি সমাজে সুবিচার কায়েম করবো। সুবিচারের দাবি আমরা পূরণ করবো।

তবে কেউ যদি মনে করেন যে, না আমি পাঁচ ঘন্টা নয় ৮ ঘন্টাই করবো, উইল বি এপ্রিশিয়েটেড, তাকে অভিনন্দন জানানো হবে। কোন সমস্যা নাই। আমরা বাধ্য করবো না।

কোনো সফরে বা প্রয়োজনে মা-বোনদের বিভিন্ন মার্কেটে যেতে হয়। পুরুষদের জন্য পর্যাপ্ত ওয়াশরুম নামাজের জায়গার ব্যবস্থা থাকলেও মহিলাদের জন্য নারীদের জন্য সেটা থাকে না। আল্লাহ যদি আমাদেরকে এই সুযোগ দেন, তাহলে জায়গায় জায়গায় এটা নিশ্চিত করন হবে।

তিনি বলেন, আমরা একটা মানবিক সমাজ চাই। আমরা কোন ক্লেশ চাই না, বিভাজন চাই না। ধর্মেও চাই না, বর্ণেও চাই না। আমরা কোন জেন্ডারেও কোন ব্যবধান চাই না।

তিনি মহিলা সমাবেশে উপস্থিত নারীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেন, ১২ জানুয়ারি দুটি ভোট। একটা হচ্ছে হাঁ ভোট। হাঁ মানে হচ্ছে বাংলাদেশ জিতে যাওয়া। হাঁ মানে হচ্ছে আজাদি। হাঁ মানে ফ্যাসিবাদের যন্ত্রণা আর ফিরে না আসা। অতএব হ্যাঁ ন্যায় এবং ইনসাফের বিপক্ষে।

তিনি বলেন, দূর অতীতে আমাদের যাওয়ার দরকার নাই। চব্বিশের ৫ আগস্ট থেকে কার আমলনামা কেমন, কার দৃষ্টিনভঙ্গি চলাফেরা, কাজকর্ম, আচার-আচরণ, কার নীতি, পলিসি, কেমন সেইটা আপনাদের সকলের সামনে পরিষ্কার। এখানে যাদেরকে সুনীতির উপর পাবো যাদের উপর আস্থা রাখতে পারবো আমার দেশ, আমার মাটি, মা আমার ভাই, সবার আমানত যারা রক্ষা করতে পারবে ইনশাল্লাহ ১২ জানুয়ারি ভোট তাদের পক্ষে হবে।

তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ইনসাফের প্রতীক দাড়িপাল্লা। আমরা ওজন করে সকলের পাওনা তার ঘরে পৌঁছে দিতে চাই।যার যেটা অধিকার, পাওনা সেইটাই দাড়িপাল্লার নিক্তিতে ওজন করে ইনশল্লাহ আমরা পৌঁছে দিতে চাই।

তিনি যুবতী তরুনীদে৷ উদ্দেশ্যে বলেন, তাদের জন্যে আমরা এতোটুকু কথা বলতে চাই, আমরা তোমাদের হাতে কোন বেকার ভাতা তুলে দেবো না। আমরা তোমাদের দুইটা স্কিল উপহার দিবো। একটা হচ্ছে ল্যাঙ্গুয়েস্টিক স্কিল, ভাষার দক্ষতা। ইংলিশ, আরবি, যার জন্য যেটা প্রযোজ্য, বাংলা তো আমার আছেই। আর দ্বিতীয়টা হচ্ছে হাতকে দক্ষ হিসেবে আমরা গড়ে দেবো। তোমাদের হাত সেই প্রফেশনাল এডুকেশন আমরা দিবো ইনশাআল্লাহ।যাতে তোমরা সম্মান এবং মর্যাদার সাথে কাজ নিয়ে তোমরা থাকতে পারো।

জামায়াতের মহিলা কর্মীদের উপর হামলার বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, যারা মায়েদের গায়ে হাত বাড়িয়েছো, তওবা করো ক্ষমা চাও। তবে বলে দিচ্ছি, আমাদের চেয়ে আমাদের মায়েদের জীবনের মূল্য বেশি। মাকে সম্মান করো, অন্যথায় ভবিষ্যৎ পরিণতির জন্য প্রস্তুত হও; সতর্ক করেন তিনি।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন