বাংলাদেশকে ছাড়া বিশ্বকাপ মানতে পারছেন না ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) প্রধান নির্বাহী টম মোফাট। এক বিবৃতিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, ক্রিকেটে বিভক্তি তৈরি না করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ রাখা উচিত আইসিসির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি।
বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার সমালোচনা করেছেন শহিদ আফ্রিদি, জেসন গিলেস্পির মতো সাবেকরাও। তবে এর বিরোধী মতও আছে। রিকি পন্টিং ভারতে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি দেখছেন না। আর ওয়াসিম আকরাম বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বর্জনের বিরোধিতা করেছেন।
টি২০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের না থাকাটা দুঃখজনক বলে বিবৃতি শুরু করেন ডব্লিউসিএর প্রধান নির্বাহী টম মোফাট, ‘টি২০ বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে সরিয়ে দেওয়া, এর মানে হলো ক্রিকেটের শীর্ষ আন্তর্জাতিক টি২০ আসরে একটি মূল্যবান ক্রিকেট জাতির অনুপস্থিতি। এটা আমাদের খেলাধুলা, বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের জন্য একটি দুঃখজনক মুহূর্ত। এ নিয়ে গভীরভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।’
ক্রিকেটের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানিয়েছে ডব্লিউসিএ, ‘এই মুহূর্তটি ক্রিকেটের জন্য আত্মপর্যালোচনার একটি সুযোগ। বিভাজন বা বর্জনকে জায়গা না দিয়ে আমরা খেলাটির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানাই– শাসন সংস্থা, লিগ, খেলোয়াড়সহ সব অংশীজনের সঙ্গে একত্রে কাজ করে খেলাটিকে ঐক্যবদ্ধ করুন।’
সমস্যা সমাধান না করে দল বাদ দেওয়ার পথে হেঁটে আইসিসি ঠিক করেনি বলে মনে করছেন মোফাট, ‘এটা বৈশ্বিক পর্যায়ে খেলাটির বিদ্যমান পরিচালনা কাঠামোর গুরুতর সমস্যাগুলো সামনে এনে দেয়। এই সমস্যাগুলো যদি সমাধান করা না হয়, তাহলে এটা বিশ্বাস ও ঐক্যকে দুর্বল করে দেবে এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের প্রিয় খেলাটির সুরক্ষা ও ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলবে।’
বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় না সরিয়ে উল্টো তাদের বাদ দেওয়ায় আইসিসির কঠোর সমালোচনা করেছেন শহিদ আফ্রিদি।
এক এক্স (সাবেক টুইটার) বার্তায় সাবেক পাকিস্তান অধিনায়ক বলেন, ‘বাংলাদেশ ও আইসিসির বিভিন্ন টুর্নামেন্ট খেলা একজন সাবেক আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে আজ আইসিসির আচরণে আমি খুবই হতাশ। ২০২৫ সালে পাকিস্তান সফরে না যাওয়ার বিষয়ে ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগ আইসিসি মেনে নিয়েছে, কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তাদের বোঝাপড়া ভিন্ন।’
গত বছর চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে পাকিস্তান যেতে রাজি হয়নি ভারত। তাদের দাবি মেনে আইসিসি ভারতের সব ম্যাচ দুবাই আয়োজন করে।
আইসিসি ভারত ও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে একই নীতি অনুসরণ করেনি মন্তব্য করে আফ্রিদি আরও লিখেছেন, ‘ক্রিকেট পরিচালনায় সবার জন্য একই নিয়ম ও ন্যায্যতা থাকা দরকার। বাংলাদেশের খেলোয়াড় ও কোটি কোটি সমর্থক সম্মানের দাবিদার, মিশ্রনীতি নয়।’
আইসিসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে এক্সে পোস্ট দিয়েছেন সাবেক অসি পেসার জেসন গিলেস্পিও, ‘বাংলাদেশ কেন ভারতের বাইরে খেলতে পারবে না, আইসিসি কি কোনো ব্যাখ্যা দিয়েছে? আমার যতদূর মনে পড়ে, ভারত পাকিস্তানে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ম্যাচ খেলতে রাজি হয়নি। তাদের সেই ম্যাচগুলো পাকিস্তানের বাইরে খেলতে দেওয়া হয়েছিল। তাহলে এখন বিষয়টি কীভাবে যুক্তিযুক্ত হয়?’ পরে অবশ্য পোস্টটি মুছে দেন তিনি।
বাংলাদেশের দাবির বিরোধিতাও করেছেন অনেকে। সে দলে আছেন কিংবদন্তি অসি ক্রিকেটার রিকি পন্টিং, ‘ভারতে কোনো নিরাপত্তা শঙ্কা নেই। বাংলাদেশের এই দাবি সম্পূর্ণ ভুল। ভারতের চেয়ে ভালো ক্রিকেট দর্শক আপনি কোথাও পাবেন না। আইসিসি সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্কটিশদের অভিনন্দন।’
আর বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় পাকিস্তানের বিশ্বকাপ বর্জন করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন ওয়াসিম আকরাম, ‘পাকিস্তান কেন টি২০ বিশ্বকাপ বয়কটের কথা ভাবছে? বাংলাদেশ খেলবে না বলে? পাকিস্তানের ক্রিকেটের জন্য বাংলাদেশ কী করেছে? আমি এর কোনো যৌক্তিকতা দেখি না। পাকিস্তানের উচিত শিরোপা জয়ের দিকে মনোযোগ দেওয়া।’
খুলনা গেজেট/এএজে



