রবিবার । ২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১১ই মাঘ, ১৪৩২

৭৫ টন সরিষা মধু উৎপাদনের টার্গেট সাতক্ষীরায়

নিজস্ব প্রতি‌বেদক, সাতক্ষীরা

সাতক্ষীরা জেলায় চলতি মৌসুমে ১৯১৬২ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ এবং ২৭ হাজার ২০২ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এসবের মধ্যে সরিষা মাঠ থেকে ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বাকি মধু সুন্দরবন অথবা বিভিন্ন প্রাকৃতিক উপায়ে সংগ্রহ করা হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে সাতক্ষীরায় ১৯ হাজার ২৫ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। ২০২৪-২০২৫ মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে আবাদ কমে ১৭ হাজার ৫৩১ হেক্টরে নেমে আসে। তবে চলতি ২০২৫-২০২৬ মৌসুমে আবারও আবাদ বেড়ে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ১৬২ হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ৫২৫৫ হেক্টর জমিতে ৭৫১৫ মেঃ টন, কলারোয়া উপজেলায় ৭৬৫৫ হেক্টর জমিতে ১০৯৪৭ মেঃ টন, তালা উপজেলায় ১৩৬৫ হেক্টর জমিতে ১৯৫২ মেঃ টন, দেবহাটা উপজেলায় ১৯০৫ হেক্টর জমিতে ২৭২৪ মেঃ টন, কালিগঞ্জ উপজেলায় ১২৪০ হেক্টর জমিতে ১৭৭৩ মেঃ টন, আশাশুনি উপজেলায় ৯৮০ হেক্টর জমিতে ১৪০১ মেঃ টন এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৭৬২ হেক্টর জমিতে ১০৯০ মেঃ টন সরিষা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলায় সদর, তালা, কলারোয়া ও দেবহাটা উপজেলায় সরিষার আবাদ তুলনামূলক বেশি হয়েছে।

সূত্র আরও জানায়, জেলায় এবার টরী সরিষা ৭, বারি সরিষা ৯, বারি সরিষা ১৪, বারি সরিষা ১৭, বারি সরিষা ১৮, বারি সরিষা ২০, বিনা সরিষা ৯ এবং বিনা সরিষা ১১ চাষ হয়েছে। চলতি মৌসুমে জেলার বিভিন্ন এলাকায় সরিষা ক্ষেতের পাশে প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এসব মৌ-বক্স থেকে প্রায় ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের আশা করছে কৃষি বিভাগ।

তালা উপজেলার কৃষক আব্দুল কাদের জানান, তিনি এবার তিন বিঘা জমিতে সরিষা চাষ করেছেন। খেতে ফসল ভালো হয়েছে, কিন্তু খরচ আগের তুলনায় বেড়ে গেছে। গত বছর যে সার ১৭ টাকায় কিনেছি, এবার সেটাই ৩০ টাকায় কিনতে হয়েছে। যদি ন্যায্যমূল্য না পাই, তাহলে লাভ তো দূরের কথা, খরচই উঠবে না।

কলারোয়ার সরিষা চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, “আশ্বিন মাস থেকেই জমি প্রস্তুত করতে হয়। প্রতি বিঘা জমিতে ৫ থেকে ৬ মণ সরিষা উৎপাদন হলেও উৎপাদন খরচ ৬ থেকে ৭ হাজার টাকা ছাড়িয়ে যাচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, কৃষি উপকরণ সংকট ও সময়মতো সহযোগিতা না পাওয়ায় অনেক কৃষকই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এদিকে সরিষা ফুল মৌচাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

সাতক্ষীরা জেলা মৌচাষি ও মধু ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোশারফ হোসেন বলেন, সরিষা ফুলের কারণে এবার মধুর স্বাদ ও মান দুটোই ভালো হবে। কৃষক ও মৌচাষি দুই পক্ষই এতে উপকৃত হচ্ছে। সরকারি সহযোগিতা বাড়লে সাতক্ষীরার মধু বিদেশেও রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, সরিষা ক্ষেতের পাশে মৌ-বক্স বসানোর ফলে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায় এবং এতে সরিষার ফলন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। সরিষার পাশাপাশি বরই, লিচু ফুল ও সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় মৌ-বক্স স্থাপন করে সারা বছর মধু সংগ্রহ করেন ভ্রাম্যমাণ মৌচাষিরা। এ খাতে সাতক্ষীরায় প্রায় ১৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে বলে দাবি কৃষি বিভাগের।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, “সাতক্ষীরা জেলায় আমরা ১৬ হাজার কৃষককে প্রণোদনার মাধ্যমে সরিষার বীজ ও সার দিয়েছি। তাছাড়া এসব সরিষার মাঠ থেকে আমরা ৭৫ মেট্রিক টন মধু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিলাম। কিন্তু ইতোমধ্যে ৬১ টন মধু উৎপাদন হয়েছে। যা আমাদের লক্ষ্যমাত্রাকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে সরিষা ফুলের প্রতি মণ মধু ১৫ থেকে ১৭ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চলতি মৌসুমে ২৮ জন মৌচাষি প্রায় ১০ হাজার মৌ-বক্স পরিচালনা করছেন।

এদিকে ভেজাল মধু ঠেকাতে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদপ্তর ভ্রাম্যমাণ ল্যাবের মাধ্যমে নিয়মিত সরিষা ফুলের পরীক্ষা চালাচ্ছে।

জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা দীপংকর দত্ত বলেন, “ভেজাল প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”

 

খুলনা গেজেট/এনএম




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন