শনিবার । ২৪শে জানুয়ারি, ২০২৬ । ১০ই মাঘ, ১৪৩২

বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটিতেও বিসিবির আবেদন খারিজ

ক্রীড়া প্রতিবেদক

ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত সরকারের। আইসিসিও অনড় ভারতে বিশ্বকাপ খেলতেই হবে। এই অবস্থায় সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করতে বিসিবি ‘স্বাধীন বিরোধ নিষ্পত্তি কমিটির’ (ডিআরসি) দ্বারস্থ হয়েছিল। এবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা পিটিআই জানিয়েছে, এখতিয়ার বহির্ভূত হওয়ায় সেই আবেদনও খারিজ করে দিয়েছে ডিআরসি। ফলে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের শেষ আশাটুকুও কার্যত নিভে গেল।

বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম ভালো করে জানেন, আইসিসি বোর্ডে সিদ্ধান্ত হওয়া মানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এর পরও মেইল করে সুযোগ চাওয়া মানে ‘বাই’ বলার আগে নিজেদের আর্জি জানানোর মতোই।

আইসিসি আইনের ১.৩ ধারায় উল্লেখ আছে, আইসিসি বোর্ডের নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত বা আইসিসির তত্ত্বাবধানে কোনো কমিটির কোনো সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে পারে না এই ‘ডিসপিউট রেজুলেশন কমিটি’। সাধারণত কোনো বিষয় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন কোনো ক্রিকেট বোর্ড যদি সমঝোতায় না আসতে পারে, তাহলে আইসিসির এই রিভিউ কমিটির আশ্রয় নেওয়া হয়। কিন্তু এখানে বিসিবির আবেদন আইসিসির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার। সে ক্ষেত্রে ওই রিভিউ কমিটির কিছুই করার নেই।

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইসিসির গঠনতন্ত্রের এই আইনি সীমাবদ্ধতার কারণেই বিসিবির আবেদনটি গ্রহণ না করে সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত বুধবার আইসিসির বোর্ড সভায় নিরাপত্তা শঙ্কার কারণ দেখিয়ে ভারতের ভেন্যু পরিবর্তনের প্রস্তাব তুলেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেখানে ১৬ সদস্যের মধ্যে ১৪ জনই বাংলাদেশের বিপক্ষে ভোট দেন। ১৪-২ ব্যবধানে হেরে যাওয়ার পরই শেষ ভরসা হিসেবে স্বাধীন সালিশি সংস্থা বা ডিআরসির কাছে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বিসিবি। কিন্তু সেখানেও আইনি জটিলতায় ব্যর্থ হলো তারা।

আইনি ও কূটনৈতিক সব দুয়ার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের সামনে এখন দুটি পথই খোলা। হয় আইসিসির সিদ্ধান্ত মেনে ভারতে গিয়ে বিশ্বকাপ খেলা, নয়তো টুর্নামেন্ট বর্জন করা। পিটিআই জানিয়েছে, বাংলাদেশ যদি তাদের অবস্থানে অনড় থাকে, তবে আজই তাদের পরিবর্তে বদলি দলের নাম ঘোষণা করতে পারে আইসিসি। ধারণা করা হচ্ছে, র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকায় স্কটল্যান্ডই সুযোগ পেতে পারে বাংলাদেশের জায়গায়।

মূলত মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার জেরে ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটীয় বিরোধ শুরু। সেই বিরোধ বিশ্বকাপ বয়কটের মতো সিদ্ধান্তে গড়িয়েছে। অথচ ভারতের সরকারি পর্যায় থেকে বাংলাদেশের সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে বিশ্বকাপ বয়কটের মতো ঘটনা ঘটে না। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে সেটা পরিষ্কার বলেছেন। ভারত সরকার ক্রিকেটে রাজনীতি ঢুকিয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশ সরকারও পাল্টা ব্যবস্থা নেয়। এর ফলে ক্রিকেটারদের বিশ্বকাপ খেলার সুযোগবঞ্চিত করা হলেও দেশের সম্মানকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

খুলনা গেজেট/এএজে




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন